অনলাইনে ওজন কমানো, দীর্ঘায়ু এবং স্বাস্থ্যের জন্য ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (Intermittent Fasting) নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। কিন্তু এটি কি সত্যিই দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমানোর টেকসই উপায়? হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ও বেথ ইসরায়েল ডেকনেস মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. ত্রিশা পাসরিচা (@trishapasrichamd) একটি ভিডিওতে বিজ্ঞানের ভাষায় এর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। ভিডিওটি দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছে।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং আসলে খাবারের ধরন নয়, বরং খাওয়ার সময় নিয়ে। সাধারণত দিনে ৮ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়া (যেমন: ১৬:৮ পদ্ধতি) অথবা সপ্তাহে ১-২ দিন পুরোপুরি উপবাসের মাধ্যমে এটি করা হয়।
বিজ্ঞান কী বলছে?
ডা. পাসরিচা বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে—কয়েক মাসের জন্য ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ওজন কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু সমস্যা হলো: “এটি দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন, এবং ওজন ফিরে আসে।” মানুষের ওপর করা গবেষণায় হৃদরোগ, ক্যান্সার প্রতিরোধ বা আয়ু বাড়ানোর কোনো প্রমাণিত সুবিধা পাওয়া যায়নি। স্বল্পমেয়াদি ফলাফল থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি উপকারিতা এখনো অস্পষ্ট।
ওজন ফিরে আসার কারণ: কঠোর খাওয়ার সময়সীমা কর্মক্ষেত্রের রুটিন, সামাজিক অনুষ্ঠান, পারিবারিক খাবার ও দৈনন্দিন চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। ফলে অনেকেই ছেড়ে দেন। ছেড়ে দেওয়ার পর ওজন ফিরে আসা স্বাভাবিক।
ডা. পাসরিচার পরামর্শ: দুটি সহজ ও টেকসই অভ্যাস ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের পরিবর্তে তিনি আরও নমনীয় দুটি অভ্যাসের কথা বলেছেন:
১. সকালে তাড়াতাড়ি নাশতা করুন– ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে নাশতা করুন। প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ হতে হবে। চিনিযুক্ত সিরিয়াল বা পেস্ট্রি নয়। এতে দুপুরের স্ন্যাকিং ও ক্ষুধা কমে।
২. ঘুমানোর ২-৩ ঘণ্টা আগে খাওয়া বন্ধ করুন– রাতে দেরি করে খেলে শরীরের ক্যালরি পোড়ানো ও চর্বি জমার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যা স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?
ডা. পাসরিচা স্পষ্ট করে বলেন: “সত্যি বলতে কী, কখন খাচ্ছেন তার চেয়ে কী খাচ্ছেন তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” ফল, সবজি, ডাল, শস্য, বাদাম, বীজ—এবং অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার প্রমাণিত সুবিধা সবচেয়ে বেশি। এগুলো ট্রেন্ডি নাও হতে পারে, কিন্তু কাজ করে।







































