নেপালের গণতান্ত্রিক সংকট-কেপি শর্মা ওলি-newsedge4

নেপালের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গত সোমবার একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কাঠমান্ডুসহ দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই স্কুল ও কলেজের তরুণ-তরুণী। এই তরুণদের মাথা বা বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের পুলিশি নিপীড়নের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। এই ঘটনা শুধু দুঃখজনক নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সরকারের উদাসীনতা ও নির্মমতার প্রকাশ।

জেন-জি প্রজন্ম তাদের সমাজের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অধিকার রাখে। এই প্রতিবাদগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা ছিল রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু সরকার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ, এমনকি স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের ওপরও নির্মম হামলা, সরকারের নৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।

এই হত্যাযজ্ঞের দায়ভার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির কাঁধে বর্তায়। তিনি তার তীক্ষ্ণ বক্তব্য ও জনমতের প্রতি উদাসীনতার জন্য ইতিমধ্যেই কুখ্যাত। তরুণ প্রজন্মকে তিনি যোগ্য মনে করেন না, যা তার বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। সোমবারের বিক্ষোভে পুলিশের স্বল্প উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সরকার তরুণদের ক্ষোভের গভীরতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিল। এটি কেবল ভুল হিসাব নয়, বরং তরুণদের প্রতি সরকারের অন্ধত্বের প্রকাশ। গত ২৮ মার্চের রাজতন্ত্রপন্থি সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যর্থতার ঘটনার পরও সরকারের এমন গাফিলতি অগ্রহণযোগ্য।

সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো সরকারের গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাব। মৃতদেহের সংখ্যা বাড়ার সময়ও সরকার দায় চাপিয়েছে তথাকথিত ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ ওপর। এই অজুহাতে সত্যকে ঢাকা যায় না। প্রধানমন্ত্রী ওলিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন। তিনিই তরুণদের বিদ্রুপ করে তাদের ক্ষোভ আরও উসকে দিয়েছেন। তার প্রশাসনের অধীনেই পুলিশ নির্দয়ভাবে নিরপরাধ নাগরিকদের হত্যা করেছে। এই পরিস্থিতিতে তার পদত্যাগ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এটিই হবে সোমবারের ট্র্যাজেডির প্রকৃত জবাবদিহির প্রথম পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন: নেপালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

নেপালের গণতন্ত্র এখন সংকটের মুখে। তরুণ প্রজন্মের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সরকারকে অবশ্যই দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের প্রথম ধাপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *