নেপালে বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী ওলি'র পদত্যাগ-newsedge24

নেপালজুড়ে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। তার সচিব এই খবর নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ওলির স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের সাংবিধানিক সমাধানের পথ সুগম করতে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিক্ষোভের তীব্রতা

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ নেপালের প্রধান শহরগুলোতে জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা, রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল ‘প্রচন্ডা’র বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও আক্রমণের শিকার হয়।

সিভিল সার্ভিস হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মোহন রেগমি বিবিসিকে জানান, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত দু’জন নিহত এবং ৯০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হন।

সরকারের দুর্নীতি, অর্থ পাচার, অনিয়ম এবং সামাজিক মাধ্যমের ২৬টি প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জেন-জি প্রজন্ম গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে বিক্ষোভ শুরু করে। সরকার ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্ম ব্লক করার পর ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সোমবার বিক্ষোভকারীরা কাঠমান্ডুর পার্লামেন্ট হাউজে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস এবং রাবার বুলেটের পাশাপাশি ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করে।

মন্ত্রীদের পদত্যাগ

বিক্ষোভের তীব্রতার মধ্যে সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক এবং মঙ্গলবার সকালে কৃষিমন্ত্রী রামনাথ অধিকারী পদত্যাগ করেন। তবে, বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং পুরো মন্ত্রী পরিষদের পদত্যাগ।

সরকারের পদক্ষেপ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঠমান্ডু, ললিতপুর এবং ভক্তপুরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার রাতে সরকার সামাজিক মাধ্যমের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ওলি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিলেন, তবে এর আগেই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি

জেন-জি বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন এবং বারবার ব্যর্থ নেতাদের রাজনীতিতে ফিরে আসার উপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *