এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে ভাল থাকবে কিডনি
  • March 14, 2025
  • নিউজএজ ডেস্ক
  • 0

কিডনিতে পাথর একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা যা কিডনিতে খনিজ পদার্থ এবং লবণ জমা হওয়ার কারণে হয়। এই সমস্যাটি তখন ঘটে যখন প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট এবং ইউরিক অ্যাসিডের মতো পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং তারা স্ফটিক আকারে জমা হয়ে পাথরের আকার ধারণ করে (কিডনিতে পাথরের কারণ)।

কিডনিতে পাথরের আকার ছোট দানা থেকে শুরু করে বড় এবং বেদনাদায়ক গঠন পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৫ উপলক্ষে, আসুন আমরা ডাঃ অমিত নাগরিক (সিনিয়র কনসালটেন্ট নেফ্রোলজিস্ট, মেডিকভার হাসপাতাল, নভি মুম্বাই) এর কাছ থেকে কিডনিতে পাথরের লক্ষণ, কারণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিই।

পানির অভাব: পর্যাপ্ত পানি পান না করলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, যা পাথর গঠনের ঝুঁকি বাড়ায়।

খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কিত ভুল- অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালং শাক, বাদাম, চকোলেট), অতিরিক্ত লবণ এবং অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়ার ফলে পাথর হতে পারে।

চিকিৎসাগত অবস্থা — হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম, স্থূলতা, মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই) এবং কিছু ওষুধও পাথরের কারণ হতে পারে।
বিশ্ব কিডনি দিবস

কিডনিতে পাথরের লক্ষণ
তলপেট, পেট বা কুঁচকিতে তীব্র ব্যথা
প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
প্রস্রাবে রক্ত ​​(গোলাপী, লাল, অথবা বাদামী)
ঘন ঘন প্রস্রাব করার তাগিদ
বমি বমি ভাব এবং বমি
সংক্রমণের কারণে জ্বর এবং ঠান্ডা লাগা

যদি এই লক্ষণগুলি উপেক্ষা করা হয়, তাহলে পাথরগুলি মূত্রনালীর পথ বন্ধ করে দিতে পারে, যার ফলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
কিডনিতে পাথরের চিকিৎসা
প্রাকৃতিক পদ্ধতি: প্রচুর পানি পান এবং ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের মাধ্যমে প্রায়শই ছোট পাথর শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
ওষুধ: কিছু ওষুধ মূত্রনালীর পেশী শিথিল করে পাথর অপসারণে সাহায্য করে।

শক ওয়েভ লিথোট্রিপসি (SWL) – এই পদ্ধতিতে, শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে বড় পাথরগুলিকে ছোট ছোট টুকরো করে ভেঙে ফেলা হয়, যাতে সেগুলি সহজেই অপসারণ করা যায়।
ইউরেটেরোস্কোপি- পাথর অপসারণ বা ভাঙার জন্য মূত্রনালীর মধ্যে একটি পাতলা নল ঢোকানো হয়।
অস্ত্রোপচার – গুরুতর ক্ষেত্রে, বড় বা আটকে থাকা পাথর অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ
পানি পান করুন – দিনে কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এটি প্রস্রাব পাতলা রাখে এবং পাথরের ঝুঁকি কমায়।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস- সীমিত পরিমাণে লবণ এবং অক্সালেটযুক্ত খাবার খান। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাবেন না।
নিয়মিত ব্যায়াম – সুস্থ বিপাক বজায় রাখতে এবং পাথরের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
চেকআপ- যদি আপনার পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাহলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *