ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ-newsedge24

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শনিবার (২৪ মে, ২০২৫) দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গে থাকছেন। উনি বলেননি উনি পদত্যাগ করবেন। অন্য উপদেষ্টারাও থাকছেন। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে এসেছি।”

বৈঠকটি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে শুরু হয় এবং বেলা ২টা ২০ মিনিটে শেষ হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার পরপরই এই অনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক চলাকালীন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বেলা দুইটার কিছু পরে জরুরি কাজের জন্য বেরিয়ে আসেন। তিনি জানান, বৈঠকে নির্বাচন, সংস্কার এবং জুলাই ঘোষণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করা হবে। তবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের গুজব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। এর কিছুক্ষণ পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে বৈঠক থেকে বের হতে দেখা যায়।

গত কয়েক দিন ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের গুজব এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা চলছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বৃহস্পতিবার (২২ মে, ২০২৫) উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় পদত্যাগের ভাবনার কথা প্রকাশ করেছেন। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে প্রতিবন্ধকতা, সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন, সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের অভাব এবং রাষ্ট্রীয় কাজে অসহযোগিতার কারণে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন। এই খবর প্রকাশ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক এবং সংস্কারের ধীরগতির কারণে উত্তেজনা বেড়েছে। এর আগের দিন বুধবার (২১ মে, ২০২৫) ঢাকা সেনানিবাসে ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বক্তব্য জনসমক্ষে প্রকাশ পায়। তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান, নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। এই বক্তব্য ড. ইউনূসের উপর নির্বাচনের সময়সীমা নির্ধারণের চাপ বাড়ায়।

ড. ইউনূসের পদত্যাগের ভাবনার খবরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত থেকে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোনো দলই ড. ইউনূসের পদত্যাগ চায় না। তবে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি দাবি করছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার বলেন, “আমরা ড. ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে।”

গত আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের পর ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি সংস্কার ও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও ধীরগতি, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ সংকট তাঁর প্রশাসনকে চাপে ফেলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক অবরোধ, ছাত্র আন্দোলন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

বৈঠকটি সরকারের অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা এবং নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত দেয়। ডিসেম্বর ২০২৫-এর নির্বাচন নিয়ে চাপ বাড়ছে, এবং উপদেষ্টা পরিষদের এই বৈঠক সংস্কার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, সরকারের অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *