আল-জাজিরার তথ্যচিত্রে শেখ হাসিনা-newsedge24

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার অনুসন্ধানী ইউনিট ‘হাসিনা: জুলাইয়ের ৩৬ দিন’ শীর্ষক একটি তথ্যচিত্রে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের মধ্যে গোপন ফোনালাপ প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই, ২০২৫) প্রকাশিত ৫০ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনার প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের নির্দেশের বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে।

প্রকাশিত ফোনালাপে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে শেখ হাসিনা ইনানের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি জানতে চান। ইনান জানান, হলগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে, তবে পুলিশের আরও কাজ করা প্রয়োজন। হাসিনা বলেন, “দক্ষিণে-উত্তরে বলে দিয়েছি, যেখানে যা দরকার তাই করতে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৫ জুলাই থেকে টানা দুই রাত তিনি এমন পরিস্থিতিতে কাটিয়েছেন এবং আন্দোলনের পেছনে সন্ত্রাসীদের হাত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ইনান তার নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার কথা উল্লেখ করে হাসিনার নির্দেশনা মেনে কাজ করার বিষয়ে সম্মতি জানান।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার দুই দিন পর এই কথোপকথন হয়। তথ্যচিত্রে আরও প্রকাশ পায়, ওই আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ৩০ লাখ রাউন্ড গুলি ছুড়েছিল, যার ফলে তিন সপ্তাহে প্রায় ১,৫০০ জন নিহত এবং ২৫,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হন। একজন চিকিৎসকের বরাতে বলা হয়, হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর কারণে অনেক বিক্ষোভকারী নিহত ও আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: নানামুখী জটিলতায় জর্জরিত বাংলাদেশ

এছাড়া, তথ্যচিত্রে অভিযোগ করা হয়, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সালমান এফ রহমান নিহত ছাত্র আবু সাইয়েদের হত্যা মামলা ধামাচাপা দিতে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাঁচবার পরিবর্তনের চেষ্টা করেন এবং তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তথ্যচিত্রে বলেন, শেখ হাসিনা জানতেন তার কথোপকথন রেকর্ড হচ্ছে, তবুও তিনি বলতেন, “কোনও সমস্যা নেই।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, হাসিনা অন্যদের জন্য “গভীর গর্ত খুঁড়েছিলেন,” কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেই তাতে পড়েছেন।

এই তথ্যচিত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ শীর্ষ কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া হাসিনার আমলে গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়। তথ্যচিত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *