তারেক রহমান-আগামী নির্বাচন-newsedge24

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা বেড়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে দুটি শীর্ষ দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে আসন্ন নির্বাচনে এগিয়ে থাকা দল হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তারেক রহমানকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে জল্পনা ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও তার বক্তব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ সুগম করতে পারে। তার আগমন একটি নতুন সম্ভাবনার জানালা খুলে দিয়েছে। এতে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কমবে এবং দেশ যে স্থিতিশীলতা খুঁজছে, তার দিকে অগ্রসর হবে।

খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ থাকায় আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তারেক রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, এখন মূল প্রশ্ন—তিনি কি কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারবেন? যদি চরমপন্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন, জনগণের উদ্বেগ বোঝেন এবং দলীয় কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন, তাহলে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বড় উন্নতি হবে। অন্যথায় অবনতি ঘটতে পারে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে দেখা গেছে ব্যাপক জনউদ্দীপনা, যা কেবল বিএনপির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আগ্রহ দেখিয়েছে। গত ১৬ মাসের অস্থিরতার পর অনেকে বিএনপিকে স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে দেখতে চাইছে।

২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও দেশত্যাগের পর নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে সরকার সমালোচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *