মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডসের মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলোতে অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’-এর সুবিধাগুলো ব্যবহার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপলের ‘রাইটিং টুলস’, ‘জেনমোজি’ এবং ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কি-বোর্ড স্টিকার ও মিমোজি ব্যবহারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বিষয়টি প্রথম শনাক্ত করে ব্রাজিলের প্রযুক্তিভিত্তিক ব্লগ সর্সারারহাট টেক, যারা তাদের স্ক্রিনশটের মাধ্যমে মেটার অ্যাপগুলোতে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স নিষ্ক্রিয় হওয়ার প্রমাণ তুলে ধরেছে।
অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স, আইওএস ১৮-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার, যা ব্যবহারকারীদের টেক্সট প্রুফরিডিং, রিস্ট্রাকচারিং এবং সামারাইজেশনের মতো সুবিধা প্রদান করে। সাধারণত, তৃতীয় পক্ষের অ্যাপগুলোতে এই ফিচারগুলো ডিফল্টভাবে সক্রিয় থাকে। তবে, অ্যাপ নির্মাতারা চাইলে এগুলো নিষ্ক্রিয় করতে পারেন, এবং মেটা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের অ্যাপগুলোতে অ্যাপলের এআই ফিচারগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। এর পরিবর্তে, মেটা তাদের নিজস্ব এআই প্রযুক্তি ‘মেটা এআই’-এর উপর জোর দিচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং থ্রেডসে টেক্সট রিফাইনমেন্ট এবং ইমেজ জেনারেশনের মতো ফিচার প্রদান করছে।
মেটার এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি জগতে অ্যাপল ও মেটার মধ্যে চলমান প্রতিযোগিতার একটি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইতোমধ্যে উভয় কোম্পানির মধ্যে অ্যাপ স্টোর নীতি, ডেটা গোপনীয়তা এবং অ্যাপ ট্র্যাকিং স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। মেটার এই সিদ্ধান্তকে অনেকে তাদের নিজস্ব এআই ইকোসিস্টেমকে প্রাধান্য দেওয়ার কৌশল হিসেবে দেখছেন, যাতে ব্যবহারকারীরা মেটা এআই-এর উপর নির্ভরশীল হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইনস্টাগ্রামে টেক্সট হাইলাইট করলে এখন ‘রাইট উইথ এআই’ অপশন দেখায়, যা অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের পরিবর্তে মেটা এআই-এর উইন্ডোতে নিয়ে যায়।
তবে, এই সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতার উপর কী প্রভাব ফেলবে? আইফোন ব্যবহারকারীরা, যারা অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের সুবিধার উপর নির্ভর করেন, তারা মেটার অ্যাপগুলোতে সীমিত কার্যকারিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। এটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যারা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মিমোজি বা কি-বোর্ড স্টিকারের মতো ফিচার ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। অন্যদিকে, মেটা এআই-এর ৫০০ মিলিয়ন মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে, যা মেটার নিজস্ব প্রযুক্তির শক্তি প্রদর্শন করে।
মেটার এই পদক্ষেপ কেবল প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রশ্ন নয়, বরং ব্যবহারকারীর ডেটা নিয়ন্ত্রণ এবং প্ল্যাটফর্ম নির্ভরতার একটি বৃহত্তর বিষয়। মেটা তাদের অ্যাপে ব্যবহারকারীর ডেটা ব্যবহার করে মেটা এআই-কে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যা তাদের এআই মডেলকে আরও শক্তিশালী করছে। অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সকে ব্লক করার মাধ্যমে মেটা নিশ্চিত করছে যে ব্যবহারকারীরা তাদের ইকোসিস্টেমের মধ্যেই থাকুক। তবে, এটি ব্যবহারকারীদের পছন্দের স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে মেটার জন্য বুমেরাং হিসেবে ফিরে আসতে পারে।




























