মাইটোকন্ড্রিয়াল রিপ্লেসমেন্ট-newsedge24

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা মাইটোকন্ড্রিয়াল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নামে একটি যুগান্তকারী পদ্ধতির মাধ্যমে তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ ব্যবহার করে আটটি সুস্থ শিশুর জন্ম দিয়েছেন। এই পদ্ধতি মায়েদের থেকে তাদের সন্তানদের মধ্যে সঞ্চারিত হওয়া মারাত্মক জেনেটিক রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। এই প্রক্রিয়ায়, মায়ের ডিম্বাণু থেকে নিউক্লিয়াস সরিয়ে নিয়ে ডোনার ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) প্রক্রিয়ায় পিতার শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত করা হয় এবং প্রতিস্থাপিত ডিম্বাণু মায়ের গর্ভে স্থাপন করা হয়। ফলে, শিশু মায়ের কাছ থেকে প্রায় ৯৯.৯% ডিএনএ এবং ডোনারের কাছ থেকে ০.১% মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পায়।

এই আট শিশুর মধ্যে চারজন ছেলে এবং চারজন মেয়ে, যার মধ্যে একজোড়া যমজও রয়েছে। এদের মধ্যে সাতজন মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ-তে বিপজ্জনক রূপান্তরের কারণে গুরুতর রোগ সন্তানের মধ্যে সঞ্চারিত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি ছিল। নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয় এবং Newcastle upon Tyne Hospitals NHS Foundation Trust-এর গবেষকরা প্রোনিউক্লিয়ার ট্রান্সফার নামে এই পদ্ধতি প্রথম মানব ডিম্বাণুতে প্রয়োগ করেছেন।

একজন মা, যিনি এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কন্যাসন্তান পেয়েছেন, বলেন, “আমরা শুধু চাইছিলাম আমাদের সন্তান যেন সুস্থভাবে জীবন শুরু করতে পারে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন আইভিএফ আমাদের সেই সুযোগ দিয়েছে।” নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর স্যার ডগ টার্নবুল বলেন, “মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ পরিবারের জন্য ধ্বংসাত্মক। এই প্রযুক্তি আরও অনেক নারীর জন্য আশার আলো জ্বালিয়েছে।”

আরও পড়ুন: ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিস্তার প্রক্রিয়া আবিষ্কার: চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

প্রতি বছর প্রায় ৫,০০০ শিশুর মধ্যে একজন মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ রূপান্তরের কারণে গুরুতর রোগ নিয়ে জন্মায়। এই পদ্ধতি এই ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, এবং এই আট শিশুর কেউই মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগের লক্ষণ বহন করছে না। NHS-এর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এই গবেষণা অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও পরিবারের জন্য সম্ভাবনা তৈরি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *