ডোনাল্ড ট্রাম্প-Donald Trump-newsedge24

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার পরও এর ঝুঁকিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এআই নিয়ে অনেক নেতিবাচক সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে, যার কিছু বাস্তবে ঘটবে না। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

আয়ারল্যান্ড সফরের সময় ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক নেতিবাচক শক্তি’ এআই নিয়ে এমন বিষয় সামনে আনছে, যা আসলে ঘটবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এআইয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এবং এই অবস্থান ধরে রাখতে চান তিনি। তার ভাষায়, ‘যে এআইয়ে জিতবে, সে-ই জিতবে।’

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের মধ্যেই এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে সতর্ক করেছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন বিবিসিকে বলেছেন, বর্তমান গতিতে এআইয়ের উন্নয়ন চলতে থাকলে মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এবং এই প্রযুক্তি তৈরির সঙ্গে যুক্ত অনেক কর্মী ‘সত্যিই আতঙ্কিত’। তিনি এআই উন্নয়নের গতি কমানোর ধারণাকে সমর্থন করেছেন। তবে তাঁর মতে, চীনের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া একতরফাভাবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন।

শনিবার অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইয়ের এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বানে সমর্থন জানান এক্সএআইয়ের মালিক ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান। আমোদেই বলেছিলেন, কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে এআই উন্নয়নের গতি কমানো প্রয়োজন। তবে চীন যাতে এগিয়ে যেতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনাও রয়েছে। আগস্টে ওপেনএআই জানায়, নিরাপত্তা বাড়াতে তারা তাদের কয়েকটি সবচেয়ে উন্নত এআই মডেলের প্রশিক্ষণের গতি কমিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এআই এজেন্টগুলো নিরাপত্তাব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা পাশ কাটিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাগিং ফেসে সাইবার হামলা চালিয়েছিল।

একই মাসে প্রকাশ পায়, বিশ্বের শক্তিশালী দুটি এআই ব্যবস্থা সাইবার হামলার সময় মানুষকে প্রতারণা করতে ভুয়া মানবপ্রোফাইল তৈরি করেছিল। যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের (এআইএসআই) তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে গুরুতর ঘটনায় অ্যানথ্রপিকের ‘মিথোস এআই’ ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়ে একটি সেবায় প্রবেশের চেষ্টা করে এবং পরে প্রমাণ লুকানোরও চেষ্টা করে।

আরও পড়ুন: ওপেনএআই চালু করল নতুন ওয়েব ব্রাউজার ‘অ্যাটলাস’

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করেছে প্রশাসন।

এদিকে এআই নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। রোববার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ও শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা মাইক জনসন দ্রুত এআই নিয়ন্ত্রণে না যাওয়ার পক্ষে সতর্কতা দেন। সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কংগ্রেস যদি তাড়াহুড়ো করে জরুরি ভিত্তিতে এআই নিয়ন্ত্রণের আইন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে প্রতিযোগিতায় হেরে যেতে পারে। তার মতে, এ ক্ষেত্রে ‘ভারসাম্য’ বজায় রাখা জরুরি।

অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমিয়ে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এআই যেন নিরাপদভাবে এগোয়, তা নিশ্চিত করতে আইনপ্রণেতাদের ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেওয়া প্রয়োজন।

ট্রাম্পের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী ডেভিড স্যাকস অবশ্য এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্য কারও অনুমতির অপেক্ষা না করে নিজেদের উদ্যোগে এআইয়ের উন্নয়নের গতি নির্ধারণ করা উচিত।

আরও পড়ুন: ‘এআই-ওয়ার্ম’: ভয়ংকর এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ম্যালওয়্যার

তবে এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দুই দলের মধ্যে কিছুটা ঐকমত্যও রয়েছে। জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একটি দল ‘ফ্রন্টিয়ার অ্যাক্ট’ নামে একটি দ্বিদলীয় বিল উত্থাপন করে। এতে এআইয়ের জন্য জাতীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ও তদারকি কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি লরি ট্রাহান বলেন, নিরাপত্তা গবেষকেরা পদত্যাগ করছেন, শক্তিশালী এআই মডেলগুলো নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ভেঙে বেরিয়ে আসছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো তারপরও উন্নয়নের দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, এ অবস্থায় কংগ্রেসের আর নীরব থাকার সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *