বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা যৌক্তিক নয়। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ মে, ২০২৫) রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে জনগণের ভোটে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপিসহ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে গণতন্ত্রকামী জনগণ মনে করে, অনির্দিষ্টকালের জন্য এই সমর্থন অব্যাহত রাখা যৌক্তিক নয়। পলাতক স্বৈরাচার যাতে আবার মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেজন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “সংস্কার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। আমরা সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রস্তাবনা প্রণয়ন করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুত করতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করা উচিত।”
নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রমজানে নিত্যপণ্যের দাম তুলনামূলক কম ছিল, এজন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু রমজান শেষ হতেই চাল ও তেলের দাম বেড়েছে। মানুষের আয়-রোজগার না বাড়লে জনগণ তাদের ভোগান্তির কথা কোথায় বলবে?”
মিয়ানমারের রাখাইনে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশকে করিডর হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, “দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে জনগণ বা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। এটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারকে বিদেশি স্বার্থের আগে দেশের জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ—এটিই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।”
সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
বেলা ২টায় শুরু হওয়া এই সমাবেশে হাজার হাজার নেতা-কর্মী রঙিন টুপি, টি-শার্ট, ব্যানার ও ঢোল নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশ নেন। সমাবেশের আগে জাসাসের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন, যেখানে কনকচাঁপা ও মৌসুমীসহ অনেকে অংশ নেন। নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































