relay 2 satellite-newsedge24

১৯৬৪ সালে উৎক্ষেপিত নাসার পরীক্ষামূলক যোগাযোগ উপগ্রহ ‘রিলে ২’, যা ১৯৬৭ সাল থেকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়, হঠাৎ এক শক্তিশালী রেডিও সংকেত পাঠিয়েছে। এই সংকেত এতটাই তীব্র ছিল যে, কয়েক ন্যানোসেকেন্ডের জন্য আকাশের অন্য সব বস্তুকে ছাড়িয়ে গেছে। নিউ সায়েন্টিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনা বিজ্ঞানীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

গত বছর ১৩ জুন, ২০২৪, অস্ট্রেলিয়ার স্কয়ার কিলোমিটার অ্যারে পাথফাইন্ডার (এএসকেএপি) টেলিস্কোপ ৩০ ন্যানোসেকেন্ডেরও কম সময় ধরে একটি শক্তিশালী রেডিও ফ্ল্যাশ শনাক্ত করে। অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ল্যান্সি জেমস এবং তার সহকর্মীরা এই সংকেত মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে এসেছে দেখে বিস্মিত হন। জেমস বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো এটি কোনো নতুন পালসার বা অন্য কোনো বস্তু। এটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ক্ষণিকের জন্য আকাশের সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে।”

গবেষকরা সংকেতের উৎস বিশ্লেষণ করে দেখেন, এটি পৃথিবী থেকে ২০,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে উৎপন্ন। পরিচিত উপগ্রহের অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করে তারা নিশ্চিত হন, সংকেতটি রিলে ২ উপগ্রহ থেকে এসেছে।

নাসার রিলে প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ১৯৬৪ সালে রিলে ১ ও রিলে ২ উৎক্ষেপিত হয়, মাঝারি পৃথিবী কক্ষপথে যোগাযোগ পরীক্ষার জন্য। নাসা ১৯৬৫ সালে রিলে ২ ব্যবহার বন্ধ করে, এবং ১৯৬৭ সাল নাগাদ এর ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

প্রায় ছয় দশক ধরে নিষ্ক্রিয় উপগ্রহ থেকে এমন সংকেত আসা অসম্ভব বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি বাহ্যিক কারণে সৃষ্ট। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে:

  • ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক ডিসচার্জ (ইএসডি): উপগ্রহে বিদ্যুৎ জমে স্ফুলিঙ্গের মতো ফ্ল্যাশ সৃষ্টি।
  • মাইক্রোমিটিয়র আঘাত: ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ডের আঘাতে প্লাজমা ডিসচার্জ।

ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের কারেন অ্যাপলিন বলেন, “মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ ও কম খরচের উপগ্রহের সংখ্যা বাড়ছে, যেগুলো ইএসডি থেকে সুরক্ষিত নয়। এই রেডিও শনাক্তকরণ মহাকাশে ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক ডিসচার্জ মূল্যায়নের নতুন কৌশল হতে পারে।”

গবেষণাটির প্রি-প্রিন্ট arXiv-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল-এ প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *