Earth mysterious heartbeat-পৃথিবীর হৃৎস্পন্দন-newsedge24

ইযুনিভার্সিটি অফ সাউথাম্পটনের গবেষকরা আফ্রিকার নিচে পৃথিবীর অভ্যন্তরে একটি অসাধারণ ঘটনা আবিষ্কার করেছেন। ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে, যেখানে তিনটি টেকটনিক প্লেট মিলিত হয়, সেখানে হৃৎস্পন্দনের মতো ছন্দময় স্পন্দন শনাক্ত করা হয়েছে। এই স্পন্দনের কারণ নিচ থেকে উঠে আসা গলিত ম্যাগমা, যা পৃথিবীর ভূত্বকের উপর আঘাত করছে। এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে আফ্রিকা মহাদেশকে বিভক্ত করে একটি নতুন মহাসাগর সৃষ্টি করছে।

গবেষকরা আফার অঞ্চল এবং প্রধান ইথিওপিয়ান রিফট থেকে ১৩০টিরও বেশি আগ্নেয় শিলার নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তারা বিদ্যমান তথ্য এবং উন্নত পরিসংখ্যানগত মডেলিং ব্যবহার করে ভূত্বক এবং ম্যান্টলের গঠন বিশ্লেষণ করেছেন।

২৫ জুন, ২০২৫-এ নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, টেকটনিক প্লেটগুলো গভীর ম্যান্টল থেকে উষ্ণ উপাদানের উর্ধ্বমুখী প্রবাহকে প্রভাবিত করছে। গবেষণার সহ-লেখক এবং সাউথাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথিবী বিজ্ঞানের অধ্যাপক টম গার্নন বলেন, “রাসায়নিক স্তরবিন্যাস থেকে বোঝা যায়, ম্যান্টল প্লাম হৃৎস্পন্দনের মতো স্পন্দিত হচ্ছে।” তিনি যোগ করেন, এই স্পন্দন প্লেটের বেধ এবং বিভাজনের গতির উপর নির্ভর করে ভিন্নভাবে আচরণ করে।

প্রধান গবেষক ড. এমা ওয়াটস, যিনি এখন সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত, বলেন, “আফারের নিচের ম্যান্টল একজাতীয় বা স্থির নয়। এটি স্পন্দিত হয় এবং এই স্পন্দনগুলো স্বতন্ত্র রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বহন করে। উপরের রিফটিং প্লেটগুলো এই গলিত ম্যান্টলের স্পন্দনকে নিয়ন্ত্রণ করে।”

গবেষণায় দেখা গেছে, মহাদেশ বিভক্ত হওয়ার ফলে একটি নতুন মহাসাগরীয় অববাহিকা তৈরি হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে রিফটের পুরো দৈর্ঘ্য বরাবর সমুদ্রতলের বিস্তার ঘটবে। সাউথাম্পটন ও ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. ডেরেক কেইর বলেন, “গভীর ম্যান্টলের উত্থান প্লেটের গতিবিধির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি পৃষ্ঠের আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ, ভূমিকম্প এবং মহাদেশীয় বিভাজন প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যায় গভীর প্রভাব ফেলে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *