‘স্ক্যাবিস’ একটি সংক্রামক চর্মরোগ, যা ‘সারকোপটিস স্ক্যাবিয়া’ নামক এক ধরনের পরজীবীর আক্রমণে হয়। এই রোগ ত্বকে তীব্র চুলকানি ও লাল ফুসকুড়ি সৃষ্টি করে, যা রাতে বেশি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের মৌসুমে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়, যদিও সারা বছরই এটি ছড়াতে পারে।
স্ক্যাবিস কীভাবে ছড়ায়?
স্ক্যাবিস অত্যন্ত সংক্রামক। এটি ছড়ায় নিম্নলিখিত উপায়ে:
- সরাসরি সংস্পর্শ: আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শে এই পরজীবী একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায়।
- ব্যবহৃত জিনিসপত্র: আক্রান্ত ব্যক্তির জামা-কাপড়, বিছানার চাদর, তোয়ালে, বা অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ব্যবহারের মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমিত হয়।
- ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা: বস্তি, হোস্টেল, বা এমন স্থান যেখানে অনেক মানুষ একসঙ্গে থাকেন, সেখানে স্ক্যাবিস বেশি ছড়ায়। অপরিচ্ছন্নতা এই রোগের বিস্তারে বড় ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, যারা নিয়মিত গোসল করেন না, কাপড় পরিষ্কার রাখেন না, বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকেন, তাদের এই পরজীবীর আক্রমণের ঝুঁকি বেশি। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া এই পরজীবীর বংশবিস্তারে সহায়ক।
লক্ষণ
স্ক্যাবিসের প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
- ত্বকে তীব্র চুলকানি, বিশেষ করে রাতে।
- ত্বকে লাল ফুসকুড়ি বা ছোট ছোট দানা।
- আঙুলের ফাঁক, কবজি, কনুই, কোমর, বগল, বা শরীরের ভাঁজে পরজীবীর সুড়ঙ্গের মতো ক্ষত।
প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
স্ক্যাবিস প্রতিরোধে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি:
- ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত গোসল করা এবং পরিষ্কার জামা-কাপড় পরা।
- জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা: বিছানার চাদর, তোয়ালে, এবং জামা-কাপড় গরম পানিতে ধোয়া এবং রোদে শুকানো।
- সংস্পর্শ এড়ানো: আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।
- জনসচেতনতা: ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
চিকিৎসার জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। সাধারণত পারমেথ্রিন বা আইভারমেকটিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদেরও একই সঙ্গে চিকিৎসা নেওয়া উচিত, এমনকি তাদের লক্ষণ না থাকলেও।
























































