কার্ডিয়াক সার্জনের মৃত্যু-newsedge24

চেন্নাইয়ের সাবিতা মেডিকেল কলেজের ৩৯ বছর বয়সী কার্ডিয়াক সার্জন ডা. গ্র্যাডলিন রায় বুধবার (২৭ আগস্ট ২০২৫) হাসপাতালে ওয়ার্ডে রাউন্ড চলাকালীন হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই ঘটনা ভারতের চিকিৎসক সমাজে গভীর শোক এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনলাইন এনডিটিভি এই খবর প্রকাশ করেছে।

হায়দরাবাদভিত্তিক স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুধীর কুমার সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ডা. রায়ের সহকর্মীরা তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তিনি লিখেছেন, “সহকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন—সিপিআর, জরুরি এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট বসানো, ইনট্রা-অর্টিক বেলুন পাম্প, এমনকি ইসিএমও (এক্সট্রাকর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন) পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু বাম দিকের মূল ধমনীতে (লেফট মেইন আর্টারি) ১০০% ব্লকেজের কারণে সৃষ্ট ব্যাপক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট থেকে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।”

ডা. কুমার আরও উল্লেখ করেন, ডা. গ্র্যাডলিন রায়ের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৩০ ও ৪০-এর দশকে তরুণ চিকিৎসকদের মধ্যে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মৃত্যুর একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এর জন্য দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, তীব্র মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক ব্যায়ামের অভাব এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অবহেলাকে দায়ী করছেন।

আরও পড়ুন: বায়ুদূষণের নতুন হুমকি: ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি

চিকিৎসকরা প্রায়ই দিনে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা, কখনো কখনো ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাজ করেন। জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ, রোগীদের উচ্চ প্রত্যাশা এবং মেডিকো-লিগ্যাল জটিলতার কারণে তাদের মানসিক চাপ আরও বাড়ে। এছাড়া, বার্নআউট, বিষণ্নতা এবং উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যাগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। ডা. রায় তার স্ত্রী এবং একটি ছোট সন্তান রেখে গেছেন, যা এই ঘটনাকে আরও হৃদয়বিদারক করেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, চিকিৎসকদের নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, এবং শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে এই ধরনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ডা. কুমারের মতে, “চিকিৎসকদের নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে হবে, যেমনটি তারা তাদের রোগীদের জন্য করেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *