ইবোলা প্রাদুর্ভাব-newsedge24

কঙ্গো ও উগান্ডায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক সচেতনতায় জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এখনো এটি মহামারি পর্যায়ে পৌঁছায়নি। রোববার ডব্লিউএইচও জানায়, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া, রামপারা ও মংগবালুসহ বিভিন্ন এলাকায় শনিবার পর্যন্ত কমপক্ষে ৮০টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে ৮টি সংক্রমণ এবং ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ।

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় শুক্রবার ও শনিবার দুটি নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে একজন মারা গেছেন। আক্রান্তরা কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করে এসেছেন। কঙ্গোর রাজধানী কিনসাসাতেও ইতুরি থেকে ফেরা এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে।

আফ্রিকা সিডিসি ‘সক্রিয় কমিউনিটি সংক্রমণ’ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা স্ক্রিনিং ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার করেছেন। বুনিয়ার বাসিন্দা জ্যঁ মার্ক আসিমওয়ে বলেন, “প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে এটি চলছে। একদিনেই দুই-তিনজন বা তারও বেশি মানুষকে দাফন করতে হচ্ছে। আমরা এখনো জানি না এটা আসলে কী ধরনের রোগ।”

আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক ডা. জ্যঁ কাসেয়া জানান, প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় ব্যস্ত খনিশিল্প এলাকা মংগবালুতে। রোগীরা চিকিৎসার জন্য রামপারা ও বুনিয়ায় গেলে সংক্রমণ তিনটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, মংগবালুতে এখনো অনেক সক্রিয় রোগী রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণকে জটিল করে তুলেছে। এছাড়া ইসলামিক স্টেট সমর্থিতদের হামলার কারণে নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক এবং প্রায়ই প্রাণঘাতী। এটি বমি, রক্ত বা বীর্যের মতো শারীরিক তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। কঙ্গো অতীতে একাধিকবার ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করেছে, কিন্তু সংঘাতপূর্ণ ও দূরবর্তী এলাকায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *