চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা মার্চ মাসের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। এমনকি ২০২৩ সালের প্রথম চার মাসে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে ডেঙ্গু সংক্রমণের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর ছিল, তাতেও এত রোগী ছিল না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মার্চ মাসের জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর শূককীট বা লার্ভার পরিমাণ বাড়লেও আগের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। কিন্তু এপ্রিলে দেশজুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে লার্ভার পরিমাণ বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসেও এমন বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে, যা এডিস মশার প্রজননের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে। জনস্বাস্থ্যবিদ ও কীটতত্ত্ববিদেরা সতর্ক করে বলছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এখনই জরুরি পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১,৯৫৪টি ডেঙ্গু কেস এবং ১৪টি মৃত্যু রিপোর্ট হয়েছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের ১,২২৪ কেস এবং ১৮টি মৃত্যুর তুলনায় কেস সংখ্যায় ১২৩% বেশি। মার্চের ৩-৯ তারিখের সপ্তাহে ৭০টি নতুন কেস রিপোর্ট হয়, যা পূর্ববর্তী সপ্তাহের ৬২ কেসের তুলনায় ১২.৯% বেশি। এপ্রিলে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদেরা জানাচ্ছেন, এপ্রিলের বৃষ্টি এবং উষ্ণ আবহাওয়া মশার প্রজনন বাড়িয়েছে। ঢাকা ও বরিশালের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেস বৃদ্ধির ঝুঁকি বেশি। ২০২৩ সালে ডিএনভি-২ সেরোটাইপ ৭৪% কেসের জন্য দায়ী ছিল, এবং এটি এখনও প্রভাব ফেলছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে মে মাসে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা এবং রিয়েল-টাইম নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জুনের আগে মশা নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরুর পরিকল্পনা করেছে।
২০২৩ সালের ভয়াবহ ডেঙ্গু অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায়, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।











































































































































































































































































































































































































