২০০১ সালে বাংলাদেশে প্রথম নিপাহ ভাইরাস (NiV) প্রাদুর্ভাবের পর থেকে প্রায় প্রতি বছরই মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত নথিভুক্ত ৩৪৭ জন আক্রান্তের মধ্যে ৭১.৭ শতাংশ মারা গেছেন।
ডব্লিউএইচওর মূল্যায়নে, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে নিপাহ ভাইরাসের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ‘কম’ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ডব্লিউএইচওর সহযোগিতায় নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সন্দেহজনক কেস শনাক্তকরণ, পরীক্ষাগার নিশ্চিতকরণ এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ।
বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা উপলব্ধ নেই। গুরুতর শ্বাসতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতার চিকিৎসা শুধুমাত্র নিবিড় সহায়ক যত্ন (intensive supportive care) দিয়ে করা হয়।
সংক্রমণের উপায়:
- ফলের বাদুড় (fruit bats) এবং শূকরের মতো প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ
- আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়ানো
- আক্রান্ত প্রাণীর লালা, প্রস্রাব ও বর্জ্য দ্বারা দূষিত খাবার (যেমন: খেজুরের রস) খাওয়ার মাধ্যমে
নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ মানুষ ও প্রাণী উভয়ের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যু ঘটাতে পারে। এটি প্রধানত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রাদুর্ভাব ঘটায়।
লক্ষণসমূহ: প্রাথমিক পর্যায়ে—
- জ্বর
- মাথাব্যথা
- পেশিতে ব্যথা
- বমি
- গলা ব্যথা
গুরুতর ক্ষেত্রে—
- মাথা ঘোরা
- ঘুমঘুম ভাব
- সচেতনতা হ্রাস
- স্নায়ুতান্ত্রিক লক্ষণ (acute encephalitis বা মস্তিষ্কপ্রদাহ)
- অস্বাভাবিক নিউমোনিয়া ও গুরুতর শ্বাসকষ্ট
- খিঁচুনি, কোমা (২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে)
ডব্লিউএইচও ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণকে সতর্ক থাকার এবং খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে বাদুড়ের উপস্থিতি রয়েছে এমন এলাকায়।
























































