সুপারবাগ-newsedge4

ওষুধে সহজে নিরাময়যোগ্য নয় এমন মারাত্মক ছত্রাক ক্যান্ডিডা অরিস (Candida auris) ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য। আজ মঙ্গলবার সংস্থাটির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ‘সুপারবাগ’ শুধু নবজাতক আইসিইউ (এনআইসিইউ)-তেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রাপ্তবয়স্কদের গুরুতর অসুস্থ রোগীদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। ফলে হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে ঢাকার একটি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ চালানো হয়েছে। সহযোগিতায় ছিল রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং কারিগরি সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।

ক্যান্ডিডা অরিস একটি মাল্টিড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট ছত্রাক, যা প্রচলিত অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে। আইসিইউতে দীর্ঘদিন যন্ত্রের সাহায্যে বেঁচে থাকা রোগী, ক্যাথেটার বা ভেন্টিলেটর ব্যবহারকারীদের মধ্যে এটি সহজেই সংক্রমিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ছত্রাকের সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর হার ৩০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

আইসিডিডিআর,বি-র গবেষকরা জানিয়েছেন, ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ক্যান্ডিডা অরিসের উপস্থিতি ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে নবজাতক ও প্রাপ্তবয়স্ক আইসিইউতে এটি এখন নিয়মিত সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালের পরিবেশ, যন্ত্রপাতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের হাত ও রোগীর ত্বকে এই ছত্রাক দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে, যা সংক্রমণ ছড়ানোর অন্যতম কারণ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে হাসপাতালগুলোতে অন্যান্য রোগীর জন্যও ঝুঁকি বাড়বে। আইসিডিডিআর,বি জোর দিয়ে বলেছে— হাত ধোয়া, যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্তকরণ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ প্রোটোকল মেনে চলা এবং সন্দেহজনক ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষা—এগুলোই এই সুপারবাগের বিস্তার রোধের একমাত্র উপায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *