সার্কোপেনিয়া-newsedge24

বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের পেশি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় সার্কোপেনিয়া (Sarcopenia)। ৩০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি দশকে ৩-৫ শতাংশ পেশি হারাতে শুরু করেন মানুষ। ৬০ বছরের পর এই ক্ষয়ের গতি বেড়ে যায় এবং ৮০ বছরের পর ১১ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হন।

সার্কোপেনিয়া কেন হয়?

জন্ম থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত পেশি বাড়তে থাকে এবং শক্তিশালী হয়। কিন্তু ৩০-এর পর থেকে পেশির আকার ও শক্তি কমতে শুরু করে। যদি এই ক্ষয় এতটা বেশি হয় যে দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা হয়—যেমন চেয়ার থেকে ওঠা, জারের ঢাকনা খোলা বা বাজারের ব্যাগ বহন করা—তখন তাকে বয়সজনিত সার্কোপেনিয়া বলা হয়।

প্রধান কারণসমূহ:

  • মস্তিষ্ক থেকে পেশিতে সংকেত পাঠানোর জন্য দায়ী স্নায়ুকোষের সংখ্যা কমে যাওয়া
  • গ্রোথ হরমোন, টেস্টোস্টেরন ও ইনসুলিন-লাইক গ্রোথ ফ্যাক্টরের মাত্রা হ্রাস
  • প্রোটিনকে শক্তিতে রূপান্তর করার ক্ষমতা কমে যাওয়া
  • শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি (রোগের কারণে)

কারা ঝুঁকিতে আছেন?

বয়স সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তবে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগও সার্কোপেনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

সার্কোপেনিয়ার প্রভাব কতটা ভয়ানক?

পেশি ও শক্তি অনেক কমে গেলে চলাফেরা, ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে পতন, হাড় ভাঙা, অক্ষমতা এবং এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। এটি বার্ধক্যের একটি গুরুতর সমস্যা যা জীবনের মান অনেক কমিয়ে দেয়।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

নিয়মিত শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম (রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং), প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং সক্রিয় জীবনযাপন এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *