ভাতের সঙ্গে কাঁচা লবন মাখা বা বিকেলে নোনতা ভাজাভুজি, চপ কিংবা সিঙ্গাড়ার প্রতি অনেকেরই তীব্র আকর্ষণ। বাঙালির খাওয়ার পাতে লবন বা নোনতা খাবারের এই ঝোঁক শুধু স্বাদের জন্য নয়, এর পেছনে রয়েছে শারীরবৃত্তীয় ও রোগজনিত কারণ। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, ‘সল্ট ক্রেভিং’ বা লবন খাওয়ার তীব্র ইচ্ছার অন্যতম কারণ হল হরমোনের তারতম্য, বিশেষ করে অ্যাল্ডোস্টেরন নামক স্টেরয়েড হরমোনের।
অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত অ্যাল্ডোস্টেরন শরীরে রক্তচাপ ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং সোডিয়াম শোষণে সহায়তা করে, অতিরিক্ত পটাশিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে। এই হরমোনের মাত্রায় গোলমাল হলে লবন খাওয়ার অদম্য ইচ্ছা জাগে, যা রক্তচাপ বৃদ্ধি, পটাশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি, এমনকি কিডনির রোগের কারণ হতে পারে।
হরমোন ছাড়াও ‘সল্ট ক্রেভিং’-এর অন্যান্য কারণ রয়েছে। অনিদ্রা বা কম ঘুম, প্রচণ্ড ঘাম, মানসিক চাপ, বা উদ্বেগ নোনতা খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়। কিছু রোগের ক্ষেত্রেও এই ইচ্ছা দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ‘বার্টার সিন্ড্রোম’, একটি জিনগত রোগ, যেখানে শরীর থেকে সোডিয়াম দ্রুত বেরিয়ে যায়, পটাশিয়াম ও ক্যালশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এই রোগে কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনিতে পাথর জমা, এবং রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া, ‘সিস্টিক ফাইব্রোসিস’ রোগে ফুসফুস ও বিপাকক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি লবন খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, শরীরে সোডিয়াম বা খনিজ লবণের ঘাটতি হলেই লবন খাওয়ার ইচ্ছা হয়—এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। এই আকর্ষণের পেছনে হরমোন, জীবনযাত্রা, এবং রোগজনিত কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, অতিরিক্ত লবন খাওয়া রক্তচাপ বৃদ্ধি ও কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
























































