হাম-newsedge24

দেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে তৈরি হওয়া ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের ৫৬টি জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ডব্লিউএইচও’র ঢাকা কার্যালয় লিখিতভাবে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি বলেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৬৯ শতাংশই দুই বছরের কম বয়সী শিশু। আর ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে—যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বয়সগোষ্ঠী।

৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ১৯০ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭৬ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় সংক্রমণের হার বর্তমানে প্রায় ১৬.৮, যা দেশব্যাপী বিস্তারের স্পষ্ট লক্ষণ। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই হার নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করে বেড়ে গেছে।

রাঙামাটি, বাগেরহাট, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও বান্দরবান—এই ৮টি জেলায় এখনও হাম শনাক্ত হয়নি। তবে ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগেও সংক্রমণের হার বেশি।

কেন এই প্রাদুর্ভাব?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় টিকাদানে বিঘ্ন, অসম টিকাদান হার এবং নির্ধারিত ডোজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় শিশুদের একটি বড় অংশ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এর ফলে একটি সংবেদনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যা বর্তমান সংক্রমণ বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।

লক্ষণ ও চিকিৎসা

হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। প্রধান লক্ষণগুলো হলো—উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই; উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। জ্বর নিয়ন্ত্রণে প্যারাসিটামল, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও তরল গ্রহণ জরুরি। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিরোধের উপায়

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম প্রতিরোধের টিকা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। শিশুকে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, কাশি-হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং ঘরের বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *