সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক-newsedge24

হার্ট অ্যাটাক সবসময় স্পষ্ট লক্ষণ নিয়ে আসে না। ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’ নামে পরিচিত এই নীরব হৃদ্‌রোগ তলে তলে শরীরে বাসা বাঁধে, যার লক্ষণগুলো সহজে ধরা পড়ে না। ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ’-এর গবেষণা অনুযায়ী, এমন কিছু অদ্ভুত লক্ষণ এক সপ্তাহ থেকে এক মাস ধরে প্রকাশ পেতে পারে, যা হৃদ্‌রোগের ইঙ্গিত দেয়। এই লক্ষণগুলো চিনে সতর্ক না হলে সময়মতো চিকিৎসার সুযোগ হারানোর ঝুঁকি থাকে।

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ

  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি: পর্যাপ্ত ঘুম বা বিশ্রামের পরেও সারাদিন ঝিমুনি, ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা শরীরে অস্বস্তি হতে পারে। দিনের পর দিন এই ক্লান্তি বাড়লে দ্রুত ইসিজি করানো উচিত।
  • শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা: বুকের ব্যথা ছাড়াও হাত, পিঠ, গলা, কোমর বা চোয়ালে ব্যথা হতে পারে। অনেকে এটিকে পেশির ব্যথা ভেবে উপেক্ষা করেন, যা হৃদ্‌রোগের লক্ষণ হতে পারে।
  • অতিরিক্ত ঘাম: ঠান্ডা ঘরে বসেও দরদর করে ঘাম বা রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম হওয়া গুরুতর লক্ষণ।
  • অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও পেটের সমস্যা: ঘন ঘন পেটের গোলমাল, হাইপার অ্যাসিডিটি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সও হৃদ্‌রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
  • ঘুমের সমস্যা: দীর্ঘদিন ধরে ঘুম কম হওয়া, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট হলে সতর্ক হতে হবে।

প্রতিরোধ ও পরীক্ষা

হৃদ্‌রোগ নির্ণয়ে অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম, ইলেকট্রোকার্ডিয়োগ্রাম (ইসিজি), ইকোকার্ডিয়োগ্রাম, স্ট্রেস টেস্ট বা কার্ডিয়াক এমআরআই-এর মতো পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ‘সিটি ক্যালশিয়াম স্কোর’ নামে একটি তুলনামূলক সহজ পরীক্ষা হৃদপিণ্ডে ব্লকেজ ধরতে বিশেষ করে কমবয়সীদের জন্য কার্যকর। এই পরীক্ষা হার্টের ধমনীতে ক্যালশিয়াম জমার মাত্রা পরিমাপ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ণয় করে।

জীবনযাপনে পরিবর্তন

হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী:

  • সুষম খাবার গ্রহণ করুন, জাঙ্ক ফুড কমান।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
  • ধূমপান ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়ান।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আগাম সতর্কতা ও সঠিক জীবনযাপন হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *