তীব্র গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যাওয়ায় পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পুষ্টিবিদরা বলছেন, পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি পানিসমৃদ্ধ কিছু মৌসুমি ফল খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর সহজেই আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের চারটি জনপ্রিয় ফল পানিশূন্যতা প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
দেশজুড়ে গ্রীষ্মের দাবদাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। শুধু ঠান্ডা পানীয় বা শরবতের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক উৎস থেকে পানি, ভিটামিন ও খনিজ গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ক্ষেত্রে মৌসুমি ফল হতে পারে সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ ও সুস্বাদু সমাধান।
পুষ্টিবিদদের মতে, তরমুজ গ্রীষ্মকালের অন্যতম উপকারী ফল। এর প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি অংশই পানি। ফলে শরীরে দ্রুত তরলের ঘাটতি পূরণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি তরমুজে থাকা পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকার পর এক বাটি তরমুজ শরীরকে দ্রুত স্বস্তি দিতে পারে।
পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো বাঙ্গি। স্বাদে মিষ্টি ও সুগন্ধি এই ফলে রয়েছে প্রচুর পানি, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি। গরমের দিনে শরীরের ক্লান্তি দূর করতে এবং ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে বাঙ্গি কার্যকর বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এ তালিকায় শসাও বিশেষ গুরুত্ব পায়। যদিও অনেকে এটিকে সবজি হিসেবে বিবেচনা করেন, পুষ্টিগুণের দিক থেকে এটি ফলের মতোই উপকারী। শসির অধিকাংশ অংশই পানি, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ উপাদান শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
গ্রীষ্মের আরেক জনপ্রিয় ফল ডাবের পানি ও নরম শাঁসও পানিশূন্যতা প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। ডাবে থাকা প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট শরীরের হারানো লবণ ও খনিজ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ঘাম ঝরার পর ডাবের পানি দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ফল খাওয়াই যথেষ্ট নয়; সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান এবং প্রয়োজন হলে ওরস্যালাইন গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। তবে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এসব ফল যুক্ত করলে শরীর গরমের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাড়তি সুবিধা পায়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
- তরমুজে পানির পরিমাণ ৯০ শতাংশের বেশি।
- বাঙ্গি শরীরে পানি ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণে সহায়ক।
- শসা শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের উৎকৃষ্ট উৎস।
- গরমে নিয়মিত এসব ফল খেলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে। তাই গরমের মৌসুমে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি পানিসমৃদ্ধ ফলকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ করা গেলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমবে, পাশাপাশি শরীর থাকবে সুস্থ, সতেজ ও কর্মক্ষম।




























































































