পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসন্তী থানার ভরতগড় গ্রামে শনিবার (৩১ মে) সকালে হাড়হিম করা এক হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত বিমল মণ্ডল তার ভাবি সতী মণ্ডলকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার কাটা মাথা হাতে নিয়ে বাসন্তী থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং কাটা মাথা ও ধারালো অস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে ভরতগড়ের একটি মাঠে সতী মণ্ডল ও বিমল মণ্ডলের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। এর মাঝেই বিমল হঠাৎ চপার দিয়ে সতীকে আক্রমণ করেন, যার ফলে তার মাথা ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় সতী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর বিমল এক হাতে তার ভাবির কাটা মাথা ও অপর হাতে চপার নিয়ে ভাবলেশহীনভাবে রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করেন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পথচলতি মানুষ তাকে দেখে আঁতকে উঠছেন। ধীরে ধীরে হেঁটে বিমল বাসন্তী থানায় পৌঁছে আত্মসমর্পণ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সতী মণ্ডল ও বিমল মণ্ডল ভরতগড়ের বাসিন্দা এবং সম্পর্কে ভাবি-দেবর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিবাদ চলছিল, যা চরমে পৌঁছে এই নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত ঘটায়। তবে বিবাদের মূল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিমলকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত ত্বরান্বিত করার জন্য এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিমলের মানসিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।










































