ডিয়োগো আলভেসের কাটা মাথা-newsedge24

পর্তুগালের লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ বছর ধরে একটি কাচের জারে সংরক্ষিত রয়েছে ডিয়োগো আলভেসের কাটা মাথা। শান্ত চোখ আর শীতল মুখের এই মাথার পিছনে লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলারের নৃশংস ইতিহাস। ১৮৪১ সালে ফাঁসির সাজা কার্যকর হওয়া ডিয়োগো আলভেস ছিলেন পর্তুগালের ইতিহাসে সবচেয়ে কুখ্যাত অপরাধীদের একজন, যিনি ‘অ্যাকুয়েডাক্ট মার্ডারার’ নামে পরিচিত। তাঁর জীবন ও অপরাধের গল্প আজও হাড় হিম করে দেয়।

ডিয়োগো আলভেস কে ছিলেন?

১৮১৯ সালে স্পেনের গ্যালিসিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন ডিয়োগো। কাজের খোঁজে তিনি পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আসেন। কিন্তু নতুন শহরে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কাজ জোটাতে ব্যর্থ হন। ক্রমশ তিনি মদ্যপান, জুয়াখেলা এবং অপরাধের পথে জড়িয়ে পড়েন। জীবিকার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, লুঠপাট এবং হত্যার পথ বেছে নেন। তাঁর অপরাধের প্রধান কৌশল ছিল লিসবনের আলকান্তারা অ্যাকুয়েডাক্ট ব্রিজ থেকে শিকারদের ফেলে হত্যা করা এবং ঘটনাগুলোকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা। এই কারণে তিনি ‘অ্যাকুয়েডাক্ট মার্ডারার’ নামে কুখ্যাত হয়ে ওঠেন।

অপরাধের শৃঙ্খলা

১৮৩৬ থেকে ১৮৩৯ সালের মধ্যে ডিয়োগো অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ঘটান। ব্রিজের নিচে একের পর এক মৃতদেহ পাওয়া যেতে থাকে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এগুলোকে আত্মহত্যা মনে করলেও, মৃতদেহে গভীর আঘাতের চিহ্ন এবং অস্বাভাবিক ঘটনার ধারাবাহিকতা সন্দেহ জাগায়। ১৮৩৯ সালে একটি পরিবারের চারজন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় ডিয়োগো ধরা পড়েন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, তিনি এত মানুষ হত্যা করেছেন যে সংখ্যা গুনে শেষ করা সম্ভব নয়। তাঁর সঙ্গে সেলেইরো নামে এক সহযোগীও জড়িত ছিলেন।

অনুমান করা হয়, ডিয়োগো প্রায় ৭০টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যা তাঁকে পর্তুগালের প্রথম এবং সবচেয়ে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারে পরিণত করে। তাঁর শিকার ছিল বেশিরভাগ কৃষক, দরিদ্র শ্রমিক এবং পথচারী, যাদের তিনি লুঠ করার পর ব্রিজ থেকে ফেলে দিতেন।

ফাঁসি ও মাথা সংরক্ষণ

১৮৪১ সালে ডিয়োগো আলভেস এবং তাঁর সহযোগী সেলেইরোর ফাঁসির সাজা কার্যকর হয়। তাঁর মৃত্যুর পর এক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—তাঁর মাথা কেটে ফর্মালডিহাইড দ্রবণে কাচের জারে সংরক্ষণ করা হয়। বলা হয়, এটি করা হয়েছিল অপরাধীদের মানসিকতা এবং ফ্রেনোলজি (মাথার গঠন বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব নির্ণয়) অধ্যয়নের জন্য। লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফ্যাকাল্টিতে এই মাথা আজও প্রদর্শিত হয়, যা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ও ভয়ের সঞ্চার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *