ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের গোকর্ণের রামতীর্থ পাহাড়ের একটি গুহায় ৪০ বছর বয়সী রুশ নারী নিনা কুতিনা ও তাঁর দুই কন্যা, ৬ বছর বয়সী প্রেমা এবং ৪ বছর বয়সী আমাকে ৯ জুলাই, ২০২৫ তারিখে উদ্ধার করেছে ভারতীয় পুলিশ। গোকর্ণের বনাঞ্চল, যা পর্যটকপ্রিয় গোয়ার সীমান্তে অবস্থিত, সাপ ও বন্য প্রাণীতে ভরপুর এবং বর্ষাকালে ভূমিধসের ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়মিত টহলের সময় পুলিশ নিনা ও তাঁর মেয়েদের খুঁজে পায়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, নিনার কাছে ভারতে থাকার কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। বর্তমানে তাঁদের বেঙ্গালুরুর কাছে তুমাকুরুর একটি বিদেশি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে, এবং শীঘ্রই তাঁদের রাশিয়ায় বিতাড়ন করা হবে।
নিনার ভারতে আগমন ও গুহায় বসবাস
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, নিনা কুতিনা ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে একটি ব্যবসায়িক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেন, যা ১৭ এপ্রিল, ২০১৭ পর্যন্ত বৈধ ছিল। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি ভারত ত্যাগ না করে গোয়া ও গোকর্ণের উপকূলীয় বনাঞ্চলে বসবাস শুরু করেন। ২০১৮ সালে তিনি একটি প্রস্থান অনুমতি (এক্সিট পারমিট) নিয়ে নেপালে যান এবং ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮-এ পুনরায় ভারতে ফিরে আসেন। তবে, নিনার দাবি, তাঁর ভিসা “সম্প্রতি” মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, এবং ২০১৭ সালের পর তিনি চারটি দেশ ভ্রমণ করেছেন।
পুলিশের মতে, নিনা গোকর্ণের রামতীর্থ পাহাড়ের গুহায় প্রায় দুই মাস বসবাস করছিলেন, যদিও তিনি দাবি করেছেন যে তারা মাত্র এক সপ্তাহ সেখানে ছিলেন। তিনি আগে গোয়ার একটি গুহায় বাস করতেন এবং তাঁর একটি কন্যা সেখানে জন্মগ্রহণ করে। তাঁর গুহার জীবনযাপন সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি প্রকৃতির মাঝে ধ্যান, যোগ, এবং হিন্দু দর্শন অনুসরণ করতেন। গুহার ভেতরে রুদ্রের মূর্তি, হিন্দু দেবদেবীর ছবি, এবং প্লাস্টিকের শিট, কিছু কাপড়, তাৎক্ষণিক নুডলস, এবং মৌলিক রান্নার সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
নিনা ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পিটিআই-এর সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ১৫ বছর ধরে রাশিয়ায় থাকেননি এবং কোস্টারিকা, মালয়েশিয়া, বালি, থাইল্যান্ড, নেপাল, ইউক্রেনসহ প্রায় ২০টি দেশে ভ্রমণ করেছেন। তিনি তাঁর জীবনধারাকে প্রকৃতি-নির্ভর এবং আধ্যাত্মিক হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে তাঁর মেয়েরা সাঁতার কাটত, মাটির শিল্পকর্ম তৈরি করত, গান গাইত, এবং বই পড়ত। তিনি দাবি করেন, তাঁর মেয়েরা সুস্থ এবং কখনো অসুস্থ হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা প্রকৃতিতে থাকতে অভ্যস্ত, আমরা মরছিলাম না। আমি আমার মেয়েদের জঙ্গলে মরতে নিয়ে যাইনি। তারা খুব খুশি ছিল।”
নিনার গুহায় বসবাসের কারন
নিনা গুহাটিকে নিরাপদ এবং গ্রামের কাছাকাছি বলে বর্ণনা করেন, যেখানে তিনি প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে পারতেন। তিনি সাপ ও বন্য প্রাণীদের “বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “মানুষই একমাত্র বিপদ।” তবে, পুলিশের মতে, রামতীর্থ পাহাড়ের গুহা অঞ্চলটি ভূমিধস ও বিষধর সাপের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
নিনার চারটি সন্তান ছিল, যাদের মধ্যে তাঁর ২১ বছর বয়সী বড় ছেলে ২০২৪ সালে গোয়ায় একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান। তাঁর ১১ বছর বয়সী দ্বিতীয় ছেলে বর্তমানে রাশিয়ায় রয়েছে। তাঁর দুই কন্যার পিতা ইসরায়েলি ব্যবসায়ী দ্রোর গোল্ডস্টেইন, যিনি বর্তমানে ভারতে রয়েছেন এবং তাঁর মেয়েদের যৌথ হেফাজতের দাবি জানিয়েছেন। গোল্ডস্টেইন জানান, নিনা ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে তাঁকে মেয়েদের সঙ্গে দেখা করতে দেননি এবং গোয়া থেকে চলে যাওয়ার পর তিনি একটি নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
নিনা বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণে তিনি ভারতে দীর্ঘদিন থেকে যান। তিনি ভারতের পরিবেশ ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেন।
তদন্ত ও বিতাড়ন প্রক্রিয়া
পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিনার পাসপোর্ট ও ভিসা হারিয়ে যাওয়ার দাবি শোনে, কিন্তু পরে গুহার কাছ থেকে একটি মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট উদ্ধার করে। তাঁর ভিসা ২০১৭ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং বৈধ কাগজপত্র না থাকায়, কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিতাড়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিনা ও তাঁর মেয়েদের প্রথমে বাঙ্কিকোদলা গ্রামের স্বামী যোগরত্ন সরস্বতীর আশ্রমে এবং পরে কারওয়ারের মহিলা গ্রহণ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। নিনা আটক কেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেন, বলেন, “এখানে নোংরা, গোপনীয়তা নেই, এবং শুধু সাদা ভাত দেওয়া হয়।”
রাশিয়ান দূতাবাস তাঁদের সহায়তা করছে, এবং বিতাড়ন প্রক্রিয়া জটিল ও ব্যয়বহুল হতে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। গোল্ডস্টেইন তাঁর মেয়েদের ভারতে রাখার পক্ষে এবং বিতাড়ন রোধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
আরও পড়ুন: ভারতের রাজস্থানে স্কুল ভবন ধসে ৪ শিশু নিহত
নিনা কীভাবে এবং কেন গোকর্ণের গুহায় এলেন, তাঁরা কতদিন সেখানে ছিলেন, এবং তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। পুলিশ জানায়, নিনা প্রাথমিকভাবে তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তাঁর দুই কন্যা ভারতে জন্ম করলেও, তাদের জন্মের সময় কোনো চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া হয়নি কিনা, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
নিনা কীভাবে এবং কেন গোকর্ণের গুহায় এলেন, তাঁরা কতদিন সেখানে ছিলেন, এবং তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। পুলিশ জানায়, নিনা প্রাথমিকভাবে তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তাঁর দুই কন্যা ভারতে জন্ম করলেও, তাদের জন্মের সময় কোনো চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া হয়নি কিনা, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































