এডমিরাল স্যার বেন কি-newsedge4

বৃটিশ নৌবাহিনীর প্রধান (ফার্স্ট সি লর্ড) এডমিরাল স্যার বেন কি’কে এক যুবতী সহকর্মীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত গোপন সম্পর্কের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ৫৯ বছর বয়সী এই তিন সন্তানের পিতার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, এবং তদন্তকালীন তাঁকে সব দায়িত্ব থেকে সরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা বৃটিশ নৌবাহিনীর ৫০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার এর প্রধানকে অসদাচরণের অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি করেছে। অনলাইন ডেইলি মেইল এই খবর প্রকাশ করেছে।

অভিযোগে বলা হয়, স্যার বেন কি একজন যুবতী নৌ কর্মকর্তার সঙ্গে “অনুচিত” সম্পর্কে জড়িয়েছেন, যা নৌবাহিনীর কঠোর বিধিবিধানের লঙ্ঘন। বৃটিশ নৌবাহিনীর নীতি অনুযায়ী, কমরেডদের মধ্যে এবং বিশেষ করে উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ। তবে, এই সম্পর্ক ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে কিনা বা উভয়ের সম্মতিতে গড়ে উঠেছিল কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তে এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্যার বেনের আয়োজনে আগামী সপ্তাহে রয়েল নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যা এই ঘটনার পর বাতিল করা হয়েছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে নৌবাহিনী জানিয়েছিল, স্যার বেন “ব্যক্তিগত কারণে” পদ থেকে সরে গেছেন। তবে শুক্রবার রাতে ফাঁস হওয়া তথ্যে নিশ্চিত হয়েছে যে, তিনি অসদাচরণের অভিযোগে তদন্তের মুখে রয়েছেন। সূত্র জানায়, তিনি গ্রীষ্মে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু অভিযোগের কারণে তাঁকে পদত্যাগ থেকে বিরত রাখা হয়। মঙ্গলবার নৌবাহিনী নিশ্চিত করে যে তিনি ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন, তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এটিকে “ব্যক্তিগত কারণ” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

২০২১ সাল থেকে ফার্স্ট সি লর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্যার বেন নৌবাহিনীতে যৌন অসদাচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০২২ সালে তিনি বলেছিলেন, “যারা নৌবাহিনীর মূল্যবোধ ও মান মেনে চলতে ইচ্ছুক নয়, তাদের বৃটেনের সশস্ত্র বাহিনী থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।” ২০২৩ সালে তিনি “অগ্রহণযোগ্য আচরণের” বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করেন। তাঁর এই অঙ্গীকারের বিপরীতে বর্তমান অভিযোগ তাঁর নৈতিক অবস্থান এবং নৌবাহিনীর শৃঙ্খলার ওপর প্রশ্ন তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *