সার্বিয়ার ১৯ বছর বয়সী মডেল তিজানা রাদোনজিকের একটি প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মন্টেনেগ্রোর বুদভা নদীর উপরে একটি প্রচারণামূলক শুটিংয়ের সময় এই ঘটনা ঘটে। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিজানা তার আত্মীয়দের সঙ্গে ছুটি কাটাতে মন্টেনেগ্রোতে গিয়েছিলেন। স্থানীয় একটি প্যারাসেইলিং কোম্পানির প্রচারণার জন্য তাকে বিকিনি পরে সমুদ্রের উপর দিয়ে প্যারাসেলে ওড়ার কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, প্যারাসেইলিংয়ের সময় তিজানা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এর কারণে তিনি তার সেফটি হারনেস খুলে ফেলেন। তিনি তখন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০ ফুট উচ্চতায় ছিলেন। হারনেস খোলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সমুদ্রে আছড়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা হলেও সমুদ্রের পানিতে পড়ার পরই তার মৃত্যু হয়।
‘দ্য মিরর ইউএস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, প্যারাসেলে ওঠার আগে তিজানাকে নিরাপত্তা নির্দেশাবলী সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল। ফুটেজে তাকে শান্ত ও প্রফুল্ল দেখা গিয়েছিল। কিন্তু প্যারাসেলটি অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপর ১৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর তার আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তিনি উন্মত্তভাবে তার লাইফ জ্যাকেট ও সেফটি হারনেস টানতে শুরু করেন এবং অবশেষে তার কোমরের বেল্টটি খুলে যায়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিজানা সমুদ্রে পড়ার আগে ‘আমাকে নামিয়ে দাও, আমাকে নামিয়ে দাও’ বলে চিৎকার করছিলেন।
প্যারামেডিকরা তাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধারের পর জানান, উচ্চতা থেকে পড়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। কোম্পানির মালিক মিরকো ক্রডজিক এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “তিজানার চোখেমুখে বা হাবভাবে কোনও ভয় বা আতঙ্কের লক্ষণ ধরা পড়েনি। তাকে প্যারাসেইলিংয়ের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” এই ঘটনা পর্যটন মৌসুমের আগে প্যারাসেইলিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।










































