ফতেহ ক্ষেপণাস্ত্রে-newsedge24

ভারতের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তান টানা দুই দিনে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। শনিবার (৩ মে) ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার ‘আবদালি’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার পর সোমবার (৫ মে) ১২০ কিলোমিটার পাল্লার ‘ফতেহ’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এই পরীক্ষাগুলোকে ভারত ‘বেপরোয়া উসকানি’ এবং ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধির’ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে, বিশেষ করে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের পর থেকে পাকিস্তানের ‘অপারেশন সিন্ধু’ মহড়ার প্রেক্ষাপটে।

সোমবার পাকিস্তান ‘ফতেহ’ সিরিজের একটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে, যার পাল্লা ১২০ কিলোমিটার। আইএসপিআর জানিয়েছে, এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম এবং উন্নত নির্ভুলতা যাচাই করা।

ভারতীয় কর্মকর্তারা পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘বেপরোয়া উসকানি’ এবং ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা দাবি করেছেন, এই পরীক্ষাগুলো পাকিস্তানের ‘ভারতের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক প্রচারণার’ অংশ। পাকিস্তান অবশ্য বলছে, এই পরীক্ষাগুলো ‘ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা’ নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।

পাকিস্তানের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাগুলো ‘অপারেশন সিন্ধু’ নামে একটি সামরিক মহড়ার অংশ, যা সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের পর থেকে চলছে। পাকিস্তানের নেতৃত্ব এই চুক্তি স্থগিতকে ‘যুদ্ধের সমান’ বলে আখ্যায়িত করেছে। এদিকে, ভারতও সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে। গত সপ্তাহে ভারতীয় নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী বড় মাপের মহড়া ‘আক্রমণ’ পরিচালনা করেছে, যেখানে রাফাল জঙ্গি বিমান অংশ নিয়েছে।

পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং এটি চীনের সহায়তায় উন্নত প্রযুক্তি অর্জন করেছে। আবদালি এবং ফতেহ উভয়ই পারমাণবিক ও প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্র বহন করতে সক্ষম, যা এই অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্যের উপর প্রভাব ফেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *