রাশিয়ার লেনিনগ্রাড অঞ্চলে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী জনপ্রিয় শিক্ষিকা আনা প্লাকসিউকের বিরুদ্ধে তার ১১ বছর বয়সী ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। বিবাহিত এই ইলেমেন্টারি স্কুল শিক্ষিকা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রকে যৌনতার ফাঁদে ফেলে তাকে শারীরিকভাবে স্পর্শ করতে বাধ্য করেন এবং অশালীন ও নগ্ন ছবি আদান-প্রদান করেন। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর লেনিনগ্রাড অঞ্চলের একটি আদালতে মামলা দায়ের হয়। নিউ ইয়র্ক পোস্ট গত ১৫ মে এ খবর প্রকাশ করে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, আনা প্লাকসিউক ছাত্রকে তার ঠোঁটে চুমু দিতে বাধ্য করতেন এবং ক্লাস শেষ হওয়ার পর তাকে কৌশলে ক্লাসরুমে রেখে দিতেন। ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ২৫ বছর। এর আগেও ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের দায়ে তাঁকে শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি একজন জনপ্রিয় শিক্ষিকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নির্যাতিত ছাত্রের মা তার ছেলের মোবাইলে শিক্ষিকার পাঠানো অশালীন এসএমএস এবং হোয়াটসঅ্যাপে অন্তরঙ্গ ছবি দেখে বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গের তোকসোভো শহরের স্কুল প্রিন্সিপালের কাছে অভিযোগ করেন, যাতে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ছাত্রকে বিপথগামী করা ও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ আনা হয়।
আনা প্লাকসিউক অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ছাত্রই তাকে প্রলুব্ধ করেছিল এবং তাদের চার মাসের সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, ছাত্র তার প্রশংসা করত এবং দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সংকেত দিত।
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তারের পর আনা এক বছর প্রি-ট্রায়াল হেফাজতে ছিলেন। এ ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্র কিছুদিন স্কুলে যায়নি। অভিভাবকরা এই জনপ্রিয় শিক্ষিকার এমন অন্ধকার দিক জেনে হতাশ হয়েছেন। একজন অভিভাবক তাকে ‘স্বপ্নময় শিক্ষিকা’ হিসেবে বর্ণনা করলেও সহকর্মীরা তাঁর এই আচরণ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। আনার স্বামী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।










































