বিজ্ঞানীদের মতে, সময়ের সঙ্গে লড়াই করে বিলুপ্ত জিনকে ফিরিয়ে আনা কঠিন কাজ। কিন্তু আমেরিকার জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা সফল হয়েছেন ২ কোটি বছরের পুরনো ‘ইউরিকেস’ জিনকে পুনরুজ্জীবিত করতে। এই জিন মানুষের শরীর থেকে হারিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এটি রক্তে জমা ইউরিক অ্যাসিডকে ভেঙে ফেলার ক্ষমতা রাখে, যা গেঁটে বাত (গাউট), ফ্যাটি লিভার, কিডনি স্টোন এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ নির্মূলে সাহায্য করতে পারে। গবেষণাটি ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
‘ইউরিকেস’ জিনের কাজ হলো ইউরিক অ্যাসিডকে ভেঙে অ্যালানটোইন নামক নিরাপদ পদার্থে পরিণত করা। মানুষের শরীরে এই জিন নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় ইউরিক অ্যাসিড রক্তে জমে ক্রিস্টাল তৈরি করে, যা গাঁটে ব্যথা, প্রস্রাবের সংক্রমণ এবং কিডনিতে পাথরের কারণ হয়। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘হাইপারইউরিসেমিয়া’। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার, মাছ-মাংস, ডিম বা ওজন বৃদ্ধিতে এই সমস্যা বাড়ে। বিবর্তনের ফলে ২০ থেকে ২৯ মিলিয়ন বছর আগে মানুষসহ কিছু প্রাইমেটের শরীর থেকে এই জিন হারিয়ে গেছে, যা অতীতে ফলের চিনি থেকে চর্বি তৈরিতে সাহায্য করেছিল কিন্তু আধুনিক জীবনে রোগের কারণ হয়েছে।
গবেষকেরা CRISPR-Cas9 প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাচীন ‘ইউরিকেস’ জিনকে মানুষের লিভার সেলে (হু সেল) ইনসার্ট করেছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই জিন সেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে ফেলে এবং ফ্রুকটোজ-জনিত চর্বি জমা রোধ করে। ৩ডি লিভার স্ফেরয়েডে (যা অঙ্গের মতো কাজ করে)ও একই ফল পাওয়া গেছে, যেখানে ইউরিক অ্যাসিড ৬০০ মাইক্রোমোলার থেকে নিরাপদ মাত্রায় নেমে এসেছে। এছাড়া, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং ATP-এর মাত্রায়ও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: মাইটোকন্ড্রিয়াল রিপ্লেসমেন্ট পদ্ধতিতে ৩ ব্যক্তির ডিএনএ থেকে জন্ম হলো সুস্থ শিশুর
গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়োলজি প্রফেসর এরিক গাউচার এবং পোস্টডক্টরাল রিসার্চার লাইস ডি লিমা বালিকো। গাউচার বলেন, এই প্রযুক্তি রোগীদের জন্য নতুন চিকিৎসা উন্মোচন করতে পারে, যারা বর্তমান ওষুধে সাড়া দেন না বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভোগেন। ভবিষ্যতে লিপিড ন্যানোপার্টিকলসের মাধ্যমে লিভারে এই জিন পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে।
এই গবেষণা শুধু গেঁটে বাত নয়, ফ্যাটি লিভার, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের চিকিৎসায়ও বিপ্লব আনতে পারে। যেহেতু হাইপারইউরিসেমিয়া উচ্চ রক্তচাপের ২৫-৫০% রোগীর মধ্যে দেখা যায়, এই জিন পুনরুজ্জীবন আধুনিক জীবনের মেটাবলিক রোগগুলোর সমাধান হতে পারে।


















































































