বাংলাদেশের রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো-newsedge24

রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির কারণে গত এক সপ্তাহে মার্কিন ডলার এর তুলনায় টাকার মান শক্তিশালী হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো নিলামের মাধ্যমে রোববার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনেছে, যা মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ডলারের জন্য ১২১.৫০ টাকা হার নির্ধারণ করেছে, যা বেশিরভাগ ব্যাংকের প্রস্তাবিত ১২০ টাকার চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসস’কে জানান, “টাকার বিপরীতে ডলারের দাম স্থির রাখতে আমরা নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনেছি। যদি ডলারের হার বেড়ে যায়, তাহলে আমরা একইভাবে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করব। প্রয়োজনে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে আমরা প্রস্তুত।”

একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ট্রেজারি কর্মকর্তা জানান, রোববার প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২০ টাকা। সোমবার তা ১২১.৫০ টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। গত সপ্তাহে এই হার ছিল ১২৩ টাকারও বেশি।

আরও পড়ুন: ডলারের বিপরীতে টাকার মান বৃদ্ধি পায়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদ বলেন, “বাজারের অবস্থার উপর নির্ভর করে আমরা ডলার কিনব। এটি আমাদের মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল রাখার কৌশলের অংশ।” মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “রেমিট্যান্স ও রপ্তানির কারণে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে, যা দাম কমার কারণ। ৮-১০টি ব্যাংক এই নিলামে অংশ নিয়েছে।”

২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ রেকর্ড ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৬.৮১ শতাংশ বেশি। রপ্তানি আয় ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, এবং আইএমএফ, এডিবি, জাইকা ও এআইআইবি’র ঋণ প্রবাহের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এই পদক্ষেপ আইএমএফের ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ কর্মসূচির শর্ত পূরণের অংশ, যা গত ১৪ মে ঘোষিত নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।

ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মারুফ বলেন, “ডলারের সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তবে, বাংলাদেশ এখনো মুদ্রার প্রশংসার অবস্থানে নেই।” এই পদক্ষেপ টাকার মান শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *