ডলার-newsedge24

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে ২৭৫ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স প্রবেশ করেছে, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৭১ কোটি ডলার বা ৩৪.৬৪ শতাংশ বেশি। এই পরিমাণ একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত মার্চ মাসে, ৩২৯ কোটি ডলার, এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৬৪ কোটি ডলার এসেছিল গত ডিসেম্বরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই ২০২৪-এপ্রিল ২০২৫) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২,৪৫৪ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১,৯১২ কোটি ডলারের তুলনায় ৫৪২ কোটি ডলার বা ২৮.৩৪ শতাংশ বেশি।

গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পুরো ১২ মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২,৩৯১ কোটি ডলার। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসেই আগের পুরো বছরের তুলনায় বেশি রেমিট্যান্স প্রবেশ করেছে। এই উচ্চ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও ১১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

টানা ২০ মাস পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ২২ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২২.০৪ বিলিয়ন ডলারে (আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী)। এর আগে ২০২৩ সালের আগস্টে রিজার্ভ ছিল ২৩.২৫ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু সেপ্টেম্বরে তা কমে ২১.০৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে যায়। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ২০২২ স ৪৮.০৬ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২১ সালের আগস্টে রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে, সরকার পতনের আগে ২০২৪ সালের জুলাই শেষে রিজার্ভ কমে ২০.৩৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানির উচ্চ প্রবৃদ্ধির ফলে রিজার্ভে এই পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

ব্যাংকারদের মতে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে ডলারের সংকট অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। বিগত সরকারের আমলে ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১২৭ টাকায় উঠে গিয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে তা দীর্ঘদিন ধরে ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। এই স্থিতিশীলতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *