পেয়াজ-ট্যারিফ-কমিশন-newsedge24

ভারতীয় স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন তলানিতে ঠেকেছে, কিন্তু রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের হতবাক করা এই দুরবস্থার পেছনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে প্রতিবেশী বাংলাদেশের হাত থেকে। একসময় ভারতীয় পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বাংলাদেশ এখন আত্মনির্ভরশীলতার পথে হাঁটছে এবং পাকিস্তান, চীনের মতো বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ কিনছে। ফলে ভারতের লক্ষাধিক কৃষক ও রপ্তানিকারকরা বাজার হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের আমদানি কমেছে ৯৮ শতাংশ!

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে ৭ লাখ ২৪ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করে, যা ভারতের মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ ছিল। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) আমদানি হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন—অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ হ্রাস! এই কমতি ভারতীয় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

হর্টিকালচার প্রোডিউস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এইচপিইএ) সাবেক প্রধান অজিত শাহ বলেন, “আমরা গুণমানের জন্য প্রিমিয়াম দাম নিতে পারতাম। কিন্তু যখন আমরা বাজারে ছিলাম না, তখন ক্রেতারা বিকল্প খুঁজে নিয়েছে। এখন তারা গুণমান দেখে না, শুধু দামের তুলনা করে।”

ভারতের নিজস্ব নীতিই সৃষ্টি করেছে এই সংকট

রপ্তানিকারকদের মতে, ভারত নিজেই এই পরিস্থিতির জনক। ২০১৯ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বারবার পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ বা সীমিত করেছে নয়াদিল্লি। ২০২৩-এর আগস্ট থেকে ২০২৫-এর এপ্রিল পর্যন্ত তো নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা চলেছে। এর ফলে যখনই ভারত বাজার থেকে সরেছে, তখনই ক্রেতারা বিকল্প খুঁজে নিয়েছে। বাংলাদেশ ২০২০ সালে এই নীতির অস্থিরতার জন্য ভারতকে কূটনৈতিক নোটও পাঠিয়েছিল।

এখন বাংলাদেশ স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ কিনছে না। ২০২০-২১ সালে সৌদিতে ৫৭ হাজার টন পেঁয়াজ গিয়েছিল, এ বছর এখন পর্যন্ত মাত্র ২২৩ টন। ফিলিপাইনসও চীনের পরেই ভারতের কথা ভাবে।

আরও পড়ুন: ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনা চায় না: রাজনাথ সিং

রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ বেআইনিভাবে রপ্তানি হয়ে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও চীনে পৌঁছাচ্ছে। সেই বীজ দিয়েই প্রতিবেশীরা নিজেদের উৎপাদনে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। এইচপিইএর সহ-সভাপতি বিকাশ সিং বলেন, “বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো আমাদের বীজ দিয়েই স্বাবলম্বী হচ্ছে। এটা ভারতীয় কৃষকদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। সরকারকে বীজ রপ্তানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *