হাইকোর্ট-newsedge24

আর্থিক সংকটে পড়া পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংককে একীভূতকরণের সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) শহিদুল ইসলাম নামে এক সাধারণ বিনিয়োগকারীর পক্ষে রিট আবেদন করেন ব্যারিস্টার মাহসিব হোসাইন। রিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূতকরণের প্রস্তাব অনুমোদন করে। একীভূত হয়ে নতুন একটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক গঠনের কথা বলা হয়। প্রস্তাবিত নাম দুটি— ‘ইউনাইটেড ইসলামিক ব্যাংক’ এবং ‘সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক’।

সরকার জানিয়েছে, একীভূতকরণের ফলে কোনো কর্মী চাকরি হারাবে না এবং আমানতকারীদের টাকাও নিরাপদ থাকবে।

নতুন ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদিত মূলধন হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা, আর পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পাঁচ ব্যাংকের সব সম্পদ ও দায় নতুন ব্যাংকের অধীনে যাবে। পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার দেবে ২০ হাজার কোটি টাকা—এর ১০ হাজার কোটি নগদ, বাকি ১০ হাজার কোটি সুকুক বন্ড ছাড়ার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

এ ছাড়া বেইল-ইন প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ১৫ হাজার কোটি টাকা মূলধনে রূপান্তর করা হবে। এই বেইল-ইন প্রক্রিয়ায় আমানতকারীদের পাওনার একটি অংশ শেয়ারে পরিণত হয়, যা পরে রেজল্যুশন পরিকল্পনা অনুযায়ী ফেরত দেওয়া হবে।

নতুন ব্যাংকটি প্রথমে হবে সরকারি মালিকানাধীন। পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এর মালিকানা বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মালিকের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, নতুন ব্যাংকটি সরকারি খাতে চলে যাওয়ার ফলে গ্রাহকদের মধ্যে থাকা আতঙ্ক দূর হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *