বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৮৫ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। মঙ্গলবার (১০ জুন, ২০২৫) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে, আশার কথা হলো, আগামী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হ্রাসের জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা, কাঁচামাল ও মূলধনি পণ্যের আমদানি খরচ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে মন্দাকে দায়ী করা হয়েছে। এর ফলে শিল্পোৎপাদনে ধীরগতি এবং বিনিয়োগ এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক দফা সুদের হার বাড়ানো সত্ত্বেও তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার নিচে নামেনি।

বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৯–২০ অর্থবছরে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছিল, যা ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০১–০২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যা বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে, কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশে নামবে, যা আগের বছর ছিল ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। শিল্প খাতে সামান্য উন্নতি হলেও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসাবান্ধব সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার সম্ভব। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি ২০২৫–২৭ সালে ৫ শতাংশে স্থিতিশীল থাকবে, যা দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়ক হবে। তবে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় করোনা-পূর্ব দশকের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কম থাকবে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ও ভুটানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে। নেপালে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং ভুটানে ৭ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতির ফলে সম্ভব হবে।

প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করলেও, বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি এবং আমদানি খরচ বৃদ্ধি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে ফিরতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *