দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য-newsedge24

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ও শ্বেতপত্র কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে একটি ‘চোরতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন, “এখন রাজনীতিবিদরা পালিয়ে গেছেন, ব্যবসায়ীরা ম্রিয়মাণ, আর আমলারা পুরো শক্তি নিয়ে পুনরুজ্জীবিত।” সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নীতি সংস্কার ও জাতীয় বাজেট’ শীর্ষক বহুপাক্ষিক অংশীজনের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। সিপিডি ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এই আয়োজন করে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি গত ১৫ বছরের বাংলাদেশের অর্থনীতির চালচিত্র নিয়ে শ্বেতপত্রের উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুই ভাগ করার পরামর্শ তাদের প্রতিবেদনে ছিল। তবে, যে প্রক্রিয়ায় এটি করা হয়েছে, তা সঠিক হয়নি। তিনি বলেন, “এনবিআর দুই ভাগ করা উচিত, কিন্তু আলোচনা ছাড়া এবং পেশাজীবীদের স্থান সংকুচিত করে, স্বায়ত্তশাসনের জায়গা নিয়ন্ত্রণে রেখে যেভাবে করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। এটি সঠিকভাবে করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।”

অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে বেকারত্ব বেড়ে ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। মূল্যস্ফীতির তুলনায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির হার অনেক কম। তিনি বলেন, “অর্থনীতি এখনো ঘুরে দাঁড়ায়নি। সরকার বিনিয়োগ উপাদানগুলোকে উৎসাহিত করতে পারছে না। আগামীর প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগতাড়িত নাও হতে পারে, বরং ভোগতাড়িত হতে পারে।” মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মুদ্রানীতি এখনো প্রতিফলিত হয়নি। মূল্যস্ফীতি ৮-৯ শতাংশে নামলে তবেই আমরা ইতিবাচক সংকেত পাব।”

র‍্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ বলেন, “এবারের বাজেট ভিন্নধর্মী হবে বলে আশা করি। শ্বেতপত্র, টাস্কফোর্স ও কমিশনের প্রতিফলন বাজেটে থাকা উচিত। বাজেটের আকার, এডিপির আকার ও প্রকল্পের সংখ্যা কমানোর মতো কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যে দেখা গেছে।” তিনি কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন।

কর জিডিপি রেশিও নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, “২০৩৫ সাল পর্যন্ত ১০.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা খুবই কম। এটি ১৪-১৫ শতাংশ হওয়া উচিত। ১ কোটি ১৪ লাখ টিনধারীর মধ্যে কতজন সক্রিয়, তা বের করতে হবে। কর অব্যাহতি যৌক্তিক করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *