ইনভেস্ট বাংলাদেশ-010111-NewsEdge24

দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’। ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর আওতায় গেজেট প্রকাশের পর প্রথম কর্মদিবসেই আজ রোববার নতুন এ সংস্থার কার্যক্রম শুরু হয়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষকে (পিপিপিএ) একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে গঠন করা হয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নতুন সংস্থার ব্র্যান্ড পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়েছে।

সরকার বলছে, তিনটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতাকে একত্র করে একটি জাতীয় বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের সুযোগ, অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা এক জায়গা থেকে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এটি শুধু তিনটি প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ নয়। বিনিয়োগকারীকে কেন্দ্রে রেখে সরকারের কাজ আরও কার্যকরভাবে সাজানোই এর মূল লক্ষ্য। সক্ষমতাগুলো একীভূত করার মাধ্যমে বিনিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব ও জবাবদিহি আরও স্পষ্ট এবং সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’

নতুন আইনের আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ঘোষিত অন্যান্য শিল্পাঞ্চলকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্স, অনুমোদন ও সরকারি সেবা দেওয়ার পদ্ধতি ও সময়সীমা নির্ধারণ, পিপিপি প্রকল্পের অনুমোদন কাঠামো স্পষ্ট করা এবং ছোট পিপিপি প্রকল্পের অনুমোদন সহজ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এছাড়া অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগ ও ব্যবসাসংক্রান্ত সেবাগুলো একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ আগের মতোই ‘বাংলাবিজ’ পরিচালনা করবে। এটি বাংলাদেশের বিনিয়োগসেবার একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমতিপত্র অনলাইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নতুন কর্তৃপক্ষ ১৪ দিনের ব্যবসায়িক লাইসেন্সিং কাঠামো কার্যকর করার কাজ করছে। দ্রুত ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসা পরিবেশ তৈরিতে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সরকার। এছাড়া মার্চে ঘোষিত বিভিন্ন অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ এসব এলাকায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও পরিবহন অবকাঠামোর সংযোগ তুলনামূলক দ্রুত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকল্পের ধরন ও বিনিয়োগকারীর চাহিদা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরের প্রকল্পেও সহায়তা করবে নতুন সংস্থাটি।

বিডা, বেজা ও পিপিপিএর নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমমানের পদে ইনভেস্ট বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত হবেন। তাদের চাকরির ধারাবাহিকতা ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে। আর পরামর্শক, আউটসোর্সিং ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরা বর্তমান চুক্তি বা আদেশের শর্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকারের আশা, এক ছাতার নিচে বিনিয়োগসেবা আনার ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *