রুপি-টাকা-010161-NewsEdge24

গত দুই বছরে ভারতীয় রুপির বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। এ সময়ে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু গত এক বছরেই বৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিনিময় হারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান দাঁড়ায় প্রায় শূন্য দশমিক ৭৮ ভারতীয় রুপি। এক বছর আগে ২০২৫ সালের একই দিনে তা ছিল শূন্য দশমিক ৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালে এক টাকার মূল্য ছিল শূন্য দশমিক ৭০ রুপি। এক বছরের ব্যবধানে টাকার মূল্য বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ পয়সা, যার ফলে ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিপরীত হিসাবেও চিত্র স্পষ্ট। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ২৮ টাকা। এক বছর আগে তা ছিল ১ দশমিক ৩৮ টাকা। অর্থাৎ এক রুপি কিনতে এখন প্রায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা কম টাকা লাগছে। ২০২৪ সালের তুলনায় দুই বছরে টাকার মূল্যবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও এই প্রবণতা অব্যাহত। ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১ দশমিক ২৭৮৯ থেকে ১ দশমিক ২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে শূন্য দশমিক ৭৮১ থেকে শূন্য দশমিক ৭৮২ রুপি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে। টাকার মূল্য বাড়লে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা লাগবে। এতে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদেরও স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে এই পরিবর্তন আমদানির সামগ্রিক স্থানীয় মুদ্রার ব্যয়ে প্রভাব ফেলবে। কাঁচামাল, শিল্প উপকরণ, যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিকারকরাও এর সুফল পেতে পারেন। তবে প্রকৃত প্রভাব বাজারদরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক-কর এবং ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তের ওপর।

আরও পড়ুন: টিসিবি কার্ড থেকে ৫৯ লাখ অযোগ্য সুবিধাভোগী বাদ

আরিফ হোসেন খান জানান, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই টাকা-রুপির পরিবর্তনকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে দেখতে হবে। শুধু বিনিময় হারই আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য বা ভ্রমণ ব্যয় নির্ধারণ করে না; দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *