দলের সিনিয়র নেতাদের পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সরকার বা কোনো পক্ষের সঙ্গে বিবাদে না জড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গুলশানে তাঁর বাসভবনে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব নির্দেশনা দেন তিনি।
খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকামী সমমনা দলগুলোর মধ্যে ঐক্য জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেন। এছাড়া, সরকারের সঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত ইস্যুতে সমন্বয় করে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে, শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডনে বৈঠকের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। সোমবার স্থায়ী কমিটির সভায় এই বৈঠক নিয়ে আলোচনা হয় এবং নেতারা ইতিবাচক মতামত দেন। লন্ডনের হোটেল ডোরচেস্টারে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যাকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৈঠকে নির্বাচনের সময়রেখা, সংস্কার ও বিচারসহ রাজনৈতিক ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে।
বিএনপি আগো হতে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস গত শুক্রবারে আগামী এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করেন, যা নিয়ে বিএনপি জানায়, এপ্রিল নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত সময় নয়। এই বিষয়টি লন্ডনের বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, “চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থা রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র সঠিকভাবে এগোতে পারে না।”
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “ম্যাডাম আমাদের বলেছেন, আমরা বড় দল, তাই জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে এগোতে হবে।”
লন্ডন বৈঠকের আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী লন্ডন গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই তিনি সেখানে গেছেন।
খালেদা জিয়া রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখার ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্য এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































