পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের বাজারের দুশ্চিন্তা কমাতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার। দেশব্যাপী সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি শুরু করছে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশজুড়ে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল ও ছোলার মতো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি।
রমজান আসার আগেই সাধারণত বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে এক ধরণের অস্থিরতা দেখা দেয়। অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি আর কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কায় যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, তখন সরকারের এই উদ্যোগকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে শুরু হবে এই ট্রাক সেল ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, এবারের কার্যক্রমে রমজানের অতিপ্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে ছোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে থাকছে চিনি, মসুর ডাল এবং ভোজ্যতেল। মূলত নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে পিষ্ট না হয়, সেজন্যই ভর্তুকি মূল্যে এই পণ্যগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে।
ডিলারদের তোড়জোড় ও প্রস্তুতি
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করার জন্য ডিলারদের ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পণ্য সংগ্রহের জন্য আগাম অর্থ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে। টিসিবির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, “আমরা এবার সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ফাঁক রাখতে চাই না। গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং ডিলাররা যাতে সময়মতো পণ্য বুঝে পান, তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
দেশের এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাধারণ ক্রেতারাও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। তবে ফ্যামিলি কার্ডধারীরাই এবার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারবেন।
এবারের টিসিবি প্যাকেজে যা থাকছে (এক নজরে):
সাশ্রয়ী মূল্যের এই বাজারে একজন ক্রেতা সাধারণত কী কী সুবিধা পাবেন এবং কী কী পণ্য থাকছে, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
-
ভোজ্যতেল: বাজারমূল্যের চেয়ে লিটার প্রতি উল্লেখযোগ্য কম দামে পাওয়া যাবে মানসম্মত সয়াবিন তেল।
-
মসুর ডাল: প্রতি কেজি ডালে থাকবে বিশাল ছাড়, যা সাধারণ গৃহিণীদের জন্য বড় স্বস্তি।
-
চিনি: মিষ্টি জাতীয় খাবার ও শরবতের জন্য চিনির চাহিদা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত সরবরাহ রাখা হয়েছে।
-
ছোলা ও খেজুর: রমজানের অপরিহার্য এই দুটি পণ্য এবার টিসিবির ঝুড়িতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
-
ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা: কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট রেশনিং পদ্ধতিতে সুশৃঙ্খলভাবে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, টিসিবির এই ব্যাপকভিত্তিক কার্যক্রম কেবল নির্দিষ্ট কিছু পরিবারকে সাহায্য করে না, বরং খোলা বাজারেও এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। যখন সরকারি সংস্থা বড় পরিসরে পণ্য ছাড়ে, তখন খোলা বাজারের অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম খুব বেশি বাড়ানোর সাহস পায় না। তবে এই কার্যক্রমের সাফল্য নির্ভর করছে সঠিক তদারকি ও বিতরণে স্বচ্ছতার ওপর।
বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, ডিলারদের গাফিলতি বা পণ্য পাচারের অভিযোগে অনেক সময় সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই এবার মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।











































































































































































































