নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় উত্তাল রাজপথ, ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী দেশব্যাপী অব্যাহত নির্বাচনোত্তর সহিংসতা, রাজনৈতিক নিপীড়ন, হত্যা ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ রাজপথে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

প্রতিবাদে ফুঁসছে বায়তুল মোকাররম

বিকেল গড়াতেই বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট সংলগ্ন এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে জোটের হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সহিংসতার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জোটের শীর্ষ নেতারা। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দসহ শরিক দলের শীর্ষ নেতারা মঞ্চে উপস্থিত আছেন। বক্তারা বলেন, নির্বাচনের নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর যে নারকীয় তান্ডব চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে নারী নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য ঘটনাগুলোকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন তারা।

সহিংসতার বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশের মানুষ ভোট দিতে গিয়েছিল, কিন্তু নির্বাচনের পর আমরা যা দেখছি তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমাদের মা-বোনেরা নিজ ঘরে নিরাপদ নন, রাজনৈতিক কর্মীরা রাস্তায় আক্রান্ত হচ্ছেন।” তিনি অবিলম্বে প্রতিটি সহিংসতার ঘটনার নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত দাবি করেন।

জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দেশের অনেক জায়গায় সংখ্যালঘু ও সাধারণ ভোটারদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ৩২টি আসনের ফল পুনর্গণনার আবেদন পেলেও ১১ দলীয় জোটের দাবি—ভোটের মাঠের প্রকৃত পরিবেশ এবং পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের পর দেশের এই অস্থিতিশীল পরিবেশ গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বড় বাধা। জামায়াত ও এনসিপি’র মতো শক্তিগুলো রাজপথে সোচ্চার হওয়ায় রাজনীতির মাঠ এখন বেশ উত্তপ্ত। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত এই জোটের আন্দোলন সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *