মোবাইল ফোনে-newsedge24

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বর্তমানে উৎপাদন পর্যায়ে মোবাইল ফোনের বৈশিষ্ট্যভেদে ৫% এবং ৭.৫% ভ্যাট আরোপিত। প্রস্তাবিত বাজেটে এই হার ২.৫ শতাংশ বাড়িয়ে যথাক্রমে ৭.৫% এবং ১০% করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, যেসব কোম্পানি নিজেরা কমপক্ষে দুটি কম্পোনেন্ট উৎপাদন করে এবং বাকি উপকরণ আমদানি করে সংযোজন করে, তাদের জন্য বর্তমান ৫% ভ্যাট বাড়িয়ে ৭.৫% করা হতে পারে। অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠান সব উপকরণ আমদানি করে শুধু সংযোজন করে, তাদের জন্য বর্তমান ৭.৫% ভ্যাট বাড়িয়ে ১০% করার প্রস্তাব রয়েছে। এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রযুক্তি সুলভ হওয়ায় ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে ফোনের দামে তেমন প্রভাব পড়বে না।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১৭টি প্রতিষ্ঠান স্মার্টফোন উৎপাদন ও সংযোজনের সঙ্গে জড়িত। দেশে স্মার্টফোনের চাহিদার বড় অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়, যা গত কয়েক বছরে ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ৭০% পরিবার স্মার্টফোন ব্যবহার করে। জিএসএমএ’র ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরে ৪১% এবং গ্রামে ২৬% মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন।

তবে, মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সহসভাপতি রেজওয়ানুল হক বলেন, ভ্যাট বাড়ালে অবৈধভাবে আমদানি করা স্মার্টফোনের বাজার আরও বৃদ্ধি পাবে, যা বর্তমানে ৫০% এর বেশি। তিনি জানান, নতুন ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি মোবাইল ফোনে গড়ে ৫০০ টাকা দাম বাড়তে পারে। তিনি অবৈধ আমদানি বন্ধ না হলে ভ্যাট বৃদ্ধির উদ্দেশ্য পূরণ হবে না বলে মনে করেন।

সংশ্লিষ্টরা পরামর্শ দিয়েছেন, স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশ আমদানি ও উৎপাদন বিক্রির ক্ষেত্রে কর কমানো উচিত। এর আগে, ২০২১ সালে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) দেশে উৎপাদিত মোবাইল শিল্পের জন্য ২০২৫ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *