ঢাকা, ২৩ এপ্রিল ২০২৫: অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকা মহানগর প্রথম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। সৎ মা নিশি ইসলামের দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) এই আদেশ দেয়া হয়। শাওনের বিরুদ্ধে তার বাবা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী এবং সৎ মা নিশি ইসলামের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার শুনানিতে বাড্ডা থানার দুই পুলিশ সদস্য আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগ স্বীকার করেন। তারা জানান, বাড্ডা থানার তৎকালীন ওসির নির্দেশে তারা নিশি ইসলামকে আটক ও নির্যাতনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে শাওন, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনসহ অন্য আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
নিশি ইসলাম আদালতের এই আদেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “আমরা চাই আসামিদের শাস্তি হোক। শাওন এই মামলায় অনেক প্রভাব বিস্তার করেছে। সে আমাদের মারধর করেছে।”
ঘটনার শুরু ২০২৪ সালের প্রথম দিকে। শাওনের বাবা মোহাম্মদ আলী একটি ম্যারেজ মিডিয়ার মাধ্যমে বিয়ের জন্য পাত্রী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেন। এর মাধ্যমে নিশি ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় ও পরে বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই বিয়ে জানার পর শাওন তাঁর বাবার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। এছাড়া, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সুবাদে তিনি প্রভাব খাটিয়ে নিশি ইসলামকে ছয় মাসের জেলে পাঠান।
আরও গুরুতর অভিযোগ, শাওন তাঁর বাবাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে প্রচার করে কয়েক মাস একটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আটকে রেখেছিলেন। এসব ঘটনায় শাওনের অন্যান্য ভাইবোনও জড়িত ছিলেন বলে নিশি ইসলাম অভিযোগ করেছেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শাওন এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আগামী ২৮ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেহের আফরোজ শাওন একজন খ্যাতিমান অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী, পরিচালক এবং স্থপতি। তিনি প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন, যা তাঁকে জনসমক্ষে বিতর্কিত করে। হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের সঙ্গে বিচ্ছেদে শাওনের ভূমিকা নিয়ে তাঁর সমালোচনা হয়। এই সাম্প্রতিক মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শাওনকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ঢাকার ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। একই দিন সন্ধ্যায় জামালপুরের নরুন্দিতে তাঁর গ্রামের বাড়িতে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আগুন ধরিয়ে দেয়।













































































































































































































































