এশা মার্ডার-কর্মফল-newsedge24

ঈদুল আজহা ২০২৫ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া আজমেরী হক বাঁধন অভিনীত থ্রিলার সিনেমা ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’ দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলছে। সানী সানোয়ার পরিচালিত এই নারীপ্রধান ছবিটি ধীরে ধীরে সিনেপ্লেক্সগুলোতে দর্শক টানছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ছবিটির গল্প, অভিনয় ও নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করে পোস্ট করছেন।

ছবিটির মুক্তির পর থেকে আজমেরী হক বাঁধন প্রতিদিন প্রেক্ষাগৃহে ছুটছেন। তিনি দর্শকদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের প্রতিক্রিয়া শুনছেন, ভক্তদের আবদারে ছবি তুলছেন এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, “হলে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাংলাদেশের দর্শক এখন সব ধরনের সিনেমার জন্য তৈরি। ঈদে সিনেপ্লেক্সে ছয়টি ছবি মুক্তি পেয়েছে, প্রতিটি ছবিই আলাদা। দর্শকদের বাংলা সিনেমার প্রতি ভালোবাসা একটি ইতিবাচক দিক।”

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে পুরুষপ্রধান ছবির দাপটের মধ্যে ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’ একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। বাঁধন বলেন, “আমাদের দেশে নারীপ্রধান সিনেমা খুব কম হয়। ঈদের মতো সময়ে এমন ছবি মুক্তি দেওয়ার সাহস দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি পুরুষপ্রধান। গণমানুষের মধ্যে ভায়োলেন্স বা নারীদের হেয় করে দেখানো সিনেমা বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়। এটা আমাদের সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন।” তিনি আরও বলেন, “এই ছবিতে নায়ক নেই, আইটেম গান নেই, অ্যাকশনও বাস্তবসম্মত। তাই খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না। কিন্তু প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছি।”

‘এশা মার্ডার: কর্মফল’ একটি আধুনিক থ্রিলার, যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে থ্রিলার ঘরানার অভাব পূরণের প্রচেষ্টা। ছবিটির গল্পে বাঁধনের চরিত্র তদন্তের সময় ভিকটিমের আবেগকে নিজের মধ্যে অনুভব করে এবং তাদের পরিণতিকে নিজের মতো করে উপলব্ধি করে। ছবির শেষ দৃশ্যে ‘কর্মফল’ শব্দটির তাৎপর্য পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশে থ্রিলার ছবির ইতিহাসে ‘ক্ষতিপূরণ’ (১৯৮৯) বা ‘ঢাকা অ্যাটাক’ এর মতো ছবির পর এটি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

বাঁধন মনে করেন, দর্শকদের এই ইতিবাচক সাড়া পরিচালক ও প্রযোজকদের বিভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, “এখন মূল দায়িত্ব পরিচালক ও প্রযোজকদের। তারা নতুন ও বৈচিত্র্যময় গল্প নিয়ে কাজ করলে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *