পাকিস্তানি অভিনেত্রী ও মডেল হুমাইরা আসগর আলীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় করাচির একটি স্থানীয় আদালত ফৌজদারি মামলা রুজু করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া পুলিশের তদন্তকে আরও তীব্র ও বিস্তৃতভাবে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনজীবী ও পুলিশের প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশনস জজ এই নির্দেশ দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে হত্যার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পুলিশকে হুমাইরার পরিবারের পক্ষে এবং রাষ্ট্রের নামে একটি এফআইআর করতে হবে।
এ ঘটনায় নয়া মোড় এসেছে। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, হুমাইরাকে হত্যা করা হয়েছে এবং মেকআপ আর্টিস্টসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে। পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, মৃত্যুর পরও হুমাইরার ফোন মাসের পর মাস সচল ছিল। পরিচিত এক মেকআপ আর্টিস্টের একাধিক কল ধরা হয়নি; পরে হোয়াটসঅ্যাপে প্রোফাইল ছবি হঠাৎ সরিয়ে ফেলা হয়। এ বিষয়ে সন্দেহ গভীর হয়েছে। তাই পিটিশনে ওই মেকআপ আর্টিস্ট, হুমাইরার ভাইসহ কয়েকজনকে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
গত ৮ জুলাই করাচির ইত্তেহাদ কমার্শিয়ালের একটি ফ্ল্যাট থেকে হুমাইরার ক্ষয়প্রাপ্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, মরদেহের অবস্থা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তিনি প্রায় আট মাস আগে মারা গেছেন। তদন্তকারীরা জানান, হুমাইরা অর্থনৈতিক সমস্যায় ছিলেন এবং শেষবার সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ একটি কমার্শিয়াল ফটোশ্যুটে অংশ নিয়েছিলেন। ফ্ল্যাট থেকে সংগৃহীত সামগ্রীর রাসায়নিক পরীক্ষায় সমুদ্র লবণ পাওয়া গেছে, যা দুর্গন্ধ নিবারণ ও পোকামাকড় দূর করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
আরও পড়ুন: হুমায়রা আলীর মৃত্যু দীর্ঘদিন অজ্ঞাত থাকার পেছনে কারণ
পুলিশ জানায়, হুমাইরার মোবাইল ফোন অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত সচল ছিল, যদিও ওই সময় মেকআপ আর্টিস্টের কল রিসিভ করা হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল পিকচারও সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ হুমাইরার পরিবারের সদস্য ও নিকটজনদের সঙ্গে সমন্বিত তদন্ত চালাবে। সংশ্লিষ্ট মেকআপ আর্টিস্ট, ভাই এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত হুমাইরার মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে নতুন ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।













































































































































































































































