জুবিন গার্গ-শেখরজ্যোতি-newsedge4

আসামের সঙ্গীতজগতের জনপ্রিয় শিল্পী জুবিন গার্গের সিঙ্গাপুরে ইয়টে সাঁতার কাটার সময় মৃত্যুর ঘটনায় এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত তীব্র করেছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এই মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার করেছে —গায়কের ব্যান্ডের ড্রামার শেখরজ্যোতি গোস্বামীকে। তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তার কথাতেই জুবিন সমুদ্রে নেমেছিলেন। এছাড়া, টিম ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা এবং ফেস্টিভ্যাল উদ্যোক্তা শ্যামকানু মোহন্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এসআইটি আরও প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।

গুয়াহাটির গরিগাঁও থেকে সকালে আটক করা হয় শেখরজ্যোতিকে, যিনি জুবিন গার্গের দীর্ঘদিনের সহযোগী এবং ইয়ট ট্রিপে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ঘটনার পর বলেছিলেন যে, জুবিনকে সাঁতার কাটতে দেখে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছিলেন, কিন্তু তদন্তে তার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ উঠায় গ্রেপ্তার হয়েছে।

একইদিন দাতলপাড়ায় ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়, যেখানে দরজা ভেঙে প্রবেশ করে কর্মকর্তারা। শর্মা তখন অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালের উদ্যোক্তা শ্যামকানু মোহন্তের বাড়িতেও তল্লাশি হয়েছে, যেহেতু জুবিন এই ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। আসাম সরকার এরপর সিআইডি-র নেতৃত্বে নয় সদস্যের এসআইটি গঠন করেছে, এবং দ্বিতীয় পোস্টমর্টেমের ভিসেরা ডেলিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের মর্মান্তিক মৃত্যু

শর্মার বাড়ির সামনে জুবিন গার্গের ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন, তাকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। অশান্তির জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। আসাম মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, “যদি এসআইটির তদন্ত সন্তোষজনক না হয়, তাহলে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করব।”

জুবিন গার্গের স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া গার্গ জানিয়েছেন, এটি সিজারের ঘটনা, স্কুবা ডাইভিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এবং লাইফ জ্যাকেট ছিল না। সিঙ্গাপুরে প্রথম অটোপ্সিতে ডুবে মৃত্যু বলা হয়েছে, কিন্তু আসামে দ্বিতীয় পরীক্ষায় অতিরিক্ত চাপের অভিযোগ উঠেছে। জুবিনের দেহ ২৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটিতে রাষ্ট্রীয় সম্মানে দাহ করে আসামে তিন দিন রাজ্যশোক ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *