বাংলা লোকসংগীতের প্রখ্যাত শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই। গতকাল শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতা, ফুসফুসের সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও থাইরয়েড রোগে ভুগছিলেন এই লালনকন্যা।
আজ রবিবার দুপুরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসা হয়। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তার মরদেহ কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কুষ্টিয়া তার বেড়ে ওঠার স্থান এবং লালন সংগীত চর্চার কেন্দ্র। ফরিদা পারভীন নিজে তার মা-বাবার কবরের পাশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার এই ইচ্ছা পূরণে মরদেহ কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়ায় দ্বিতীয় জানাজার পর তাকে শহরের পৌর কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। সকালে তেজকুনি পাড়া মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৫৪ সালে নাটোরের সিংড়ায় জন্মগ্রহণকারী ফরিদা পারভীন ১৯৬৮ সালে পেশাদার সংগীত জীবন শুরু করেন। লালন সংগীতের পাশাপাশি নজরুলগীতি ও দেশাত্মবোধক গানে তার অবদান অতুলনীয়।
‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘মিলন হবে কত দিনে’—এমন গানগুলো বাঙালির হৃদয়ে চিরস্থায়ী। ১৯৮৭ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। স্বামী আবু জাফর ও চার সন্তানকে রেখে তিনি চলে গেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার অবদানকে চিরস্মরণীয় বলে উল্লেখ করেছেন।













































































































































































































































