হুমায়রা আসগর আলী-newsedge24

পাকিস্তানি অভিনেত্রী ও মডেল হুমায়রা আসগর আলীর মৃত্যু প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস অজ্ঞাত থাকার পেছনে একাধিক কারণ উঠে এসেছে, যা এই ঘটনাকে রহস্যময় করে তুলেছে। ৩২ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর পচনশীল মৃতদেহ গত ৮ জুলাই করাচির ডিফেন্স ফেজ ৬-এর ইত্তেহাদ কমার্শিয়াল এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি গত সাত বছর ধরে ওই ফ্ল্যাটে একা বসবাস করছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হুমায়রা আলীর পাশের ফ্ল্যাট দীর্ঘদিন ধরে খালি ছিল, ফলে তার সঙ্গে কারো নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সৈয়দ আসাদ রেজা জানান, ফ্ল্যাটের বাথরুমের জানালা খোলা থাকায় মৃতদেহের দুর্গন্ধ বাইরে বেরিয়ে যেতে পেরেছে, যার ফলে বিল্ডিংয়ের ভেতরে তা ছড়ায়নি। এছাড়া, হুমায়রা নিয়মিত করাচি ও লাহোরের মধ্যে যাতায়াত করতেন, তাই তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে প্রতিবেশী বা বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ কেউ সন্দেহ করেননি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর পর মাত্র একজন বন্ধু অক্টোবর ৭, ২০২৪-এর পরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তারক্ষীও মৃত্যুর আনুমানিক তিন দিন পর তাকে ফোন করেছিলেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। পুলিশ সার্জন সুমাইয়া সৈয়দের পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছে, মৃতদেহটি ৮ থেকে ১০ মাস ধরে পচনশীল অবস্থায় ছিল, এবং এটি আংশিক মমি ও কঙ্কালে পরিণত হয়েছিল।

স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড?

হুমায়রার মৃত্যু স্বাভাবিক, দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নির্ধারণের জন্য সিন্ধু পুলিশ একটি ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এসপি ক্লিফটন ইমরান জাগিরানি। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন এসডিপিও ডিফেন্স, এএসপি, এসএইচও গিজরি, এবং অন্যান্য কর্মকর্তা। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিদিন এসএসপি সাউথকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে।

তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে যখন একটি আদালতের আবেদনে হুমায়রার মৃত্যুকে হত্যা বলে অভিযোগ করা হয়। পুলিশ তার মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট এবং ল্যাপটপ থেকে ডেটা সংগ্রহ করেছে, যেগুলোর পাসওয়ার্ড তার ডায়েরি থেকে পাওয়া গেছে। এছাড়া, তার আর্থিক রেকর্ড এবং দৈনন্দিন জীবনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘কাঁটা লাগা’ খ্যাত শেফালি জারিওয়ালার অকাল মৃত্যু

হুমায়রা আসগর আলীর ভাই নাভিদ আসগর পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছেদের গুজব অস্বীকার করে বলেন, তারা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে মৃতদেহ গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, একটি পারিবারিক দুর্ঘটনার কারণে তাদের প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি হয়েছিল। সিন্ধু সরকার এবং সংস্কৃতি বিভাগ তার অন্ত্যেষ্টির ব্যবস্থা করতে এগিয়ে এসেছিল, যখন প্রাথমিকভাবে পরিবারের কেউ মৃতদেহ গ্রহণে এগিয়ে আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *